আজ ‘বাংলা ইশারা ভাষা দিবস’, যেভাবে এলো

সময়ের আলো ডেস্ক

বিবিধ

আজ ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা ইশারা ভাষা দিবস। ইংরেজি Sign Language-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘সংকেত ভাষা’ শব্দটি স্বীকৃত হওয়ায় দিনটি ‘বাংলা

2026-02-07T12:26:16+00:00
2026-02-07T12:26:16+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
বিবিধ
আজ ‘বাংলা ইশারা ভাষা দিবস’, যেভাবে এলো
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম   (ভিজিট : ৩১৮)
ইশারা ভাষা। সংগৃহীত ছবি
আজ ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা ইশারা ভাষা দিবস। ইংরেজি Sign Language-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘সংকেত ভাষা’ শব্দটি স্বীকৃত হওয়ায় দিনটি ‘বাংলা সংকেত ভাষা দিবস’ নামেও পরিচিত। সমাজে যাদের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তাদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এ সাংকেতিক ভাষা। 

মানব সভ্যতার শুরুতে মানুষ বিভিন্ন সংকেত ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেই যোগাযোগ করত। গবেষকদের মতে, আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ বছর আগে মানুষ মৌখিক ভাষার ব্যবহার শেখে এবং লিখিত ভাষার বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। সে হিসেবে ভাষা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানব মস্তিষ্ক ও ভাষার প্রকাশভঙ্গি হয়েছে আরও সমৃদ্ধ।

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে যোগাযোগ সহজতর হলেও সমাজে এখনও এমন মানুষ রয়েছেন, যারা জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতার কারণে বাচনিক ভাষায় ভাব প্রকাশ করতে পারেন না। তবে তারা ভাষাহীন নন। তারা বাচনিক ভাষার পরিবর্তে সংকেত ভাষার মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি, মতামত ও চিন্তা প্রকাশ করে থাকেন। 

সংকেত ভাষা আজ বিশ্বব্যাপী একটি বহুল ব্যবহৃত ভাষিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ন্যাশনাল সেনসাস অব দ্য ডিফ পপুলেশন (এনসিডিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজির বাইরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১৩টি ভাষার মধ্যে স্প্যানিশ ও চীনা ভাষার পরেই রয়েছে আমেরিকান সংকেত ভাষা। দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই ভাষায় পারস্পরিক যোগাযোগ করে থাকেন।

ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ দ্য ডেফ-এর তথ্য মতে, সারা বিশ্বে প্রায় ৭ কোটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশেই এই সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। তবে দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯০৭ জন বাকপ্রতিবন্ধী এবং ৪৭ হাজার ৪৯০ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধী।

বিশাল এই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ১৯৯২ সালে ‘জাতীয় বধির সংস্থা’ ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের আলোকে এ দেশে সর্বপ্রথম বাংলা ইশারা ভাষা ও বিধান প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। ২০০৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাংলা ইশারা ভাষাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদ বুলেটিনে সংকেত ভাষার ব্যবহার শুরু হয়।

এছাড়া, জাতিসংঘের কনভেনশন অন দ্য রাইটস অফ পারসন্স উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিস (সিআরপিডি)-এর আলোকে প্রণীত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন–২০১৩’-এ বাংলাদেশের সকল ইশারা ভাষার প্রচার ও প্রসারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে আইন অনুযায়ী সংকেত ভাষা উন্নয়ন ও বিস্তারে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। 


সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী বিভাগ সরকারী ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েছে যা আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। আমরা যদি বাইরের দেশে দিকে তাকাই তাহলে দেখব অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, নরওয়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিনল্যাল্ড ও সাউথ আফ্রিকা তাদের দেশে ইশারা ভাষা আইন, ইনস্টিটিউট ও দোভাষী সনদ প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং দিয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ভাষার আইনি স্বীকৃতি। 

বাংলা সংকেত ভাষা দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষাগত অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সংকেত ভাষার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, এখন পর্যন্ত এ দেশে ৩৫ লক্ষাধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে বাক্প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৪৮ জন এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ৬২৬ জন। 

তিনি আরও বলেন, শিশুদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায়। 

বাংলাদেশে সর্বমহলে ব্যবহার ও বাংলাদেশের সকল বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংকেত ভাষার প্রচলন করা সম্ভব হয়নি। যার কারণে এদেশের বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদান বহু বছর ধরে ব্যহত হচ্ছে। 


/ইউএমএইচ




  বিষয়:   ইশারা ভাষা  আজ 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: