চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের এক আতঙ্কের নাম ছিল ‘লেদু বাহিনী’ ও তার প্রধান জমির উদ্দিন ওরফে জমির ডাকাত। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে যার ভয়ে তটস্থ থাকত পুরো এলাকাবাসী, অবশেষে সেই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ।
গ্রেফতারকৃত জমির উদ্দিন বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইলশা গ্রামের নুরুল ইসলাম প্রকাশ লাতুর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বাঁশখালীসহ আশেপাশের থানায় হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে অন্তত ৩৫টি মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে অন্তত ১৫টি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং ১১টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
স্থানীয়রা জানান, জমির উদ্দিন ও তার সহযোগী আবদুল করিম ওরফে লেদুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘লেদু বাহিনী’ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসী গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় পোস্টার-ব্যানারও সাঁটিয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে র্যাবের কাছে অভিযোগ করেও এতদিন কোনো সুরাহা পায়নি এলাকাবাসী। অবশেষে নির্বাচনের আগমুহূর্তে সেনাবাহিনীর এই অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
অভিযান প্রসঙ্গে বাঁশখালী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আন্দালিব কবীর জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অগ্নিসংযোগ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার আশঙ্কায় জমির উদ্দিনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামের একটি দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, সন্ত্রাসী জমিরকে আটক করে উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পর আজ শনিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এফআর