চট্টগ্রামের আলোচিত দুই থানা ফটিকছড়ি ও ভূজপুর নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে কাজ করছে বিএনপি। তবে এবার বিএনপির ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। অন্যদলের প্রার্থীদের দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে না পড়লেও কেউ বসে নেই তারাও। ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন সবাই।
২০০৮ সালে নৌকার প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলামকে বিপুল ভোটে হারিয়ে এমপি হন ধানের শীর্ষের প্রার্থী মরহুম সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী। ২০১৪ থেকে নির্বাচনে জয়ী হন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্যতম শরিক তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। ১৮ সালের নির্বাচনেও এমপি হন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের তরিকত ফেডারেশনকে ছুঁড়ে ফেলে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নজিবুল বশর ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি দুজনই আত্মগোপনে চলে যান।
এবারের নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মো. নুরুল আমিন। বিএনপিকে জয় বঞ্চিত করতে ঘাম ঝরাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়াও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী এবং স্বতন্ত্র আহমেদ কবির ও জিন্নাত আকতার।
বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে একের পর এক ঋণ খেলাপির মামলা ও প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা নিয়ে বেশ বেকায়দায় ছিলেন। নির্বাচন কমিশন থেকে হাইকোর্ট। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি এখন প্রচারণার মাঠে। কিন্তু নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হলেও ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের আদেশের জন্য। আদালত পরবর্তী ২৮ এপ্রিল তারিখ ঠিক করেছেন।
উপজেলার বাসিন্দাদের একান্ত চাওয়া আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, হালদা ও ধুরুং খালের ভাঙন রোধে ব্যবস্থা ও গ্যাস সরবরাহের মতো বিভিন্ন বিষয়।
বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর বলেন, একটি দল আমাদের আদালতে রেখে ক্ষমতার দিবা স্বপ্ন দেখছে। তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। হামলা-মামলা যাই হোক ইনশাল্লাহ বিএনপির প্রার্থীর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। জনগণই আমাদের ক্ষমতার উৎস। নির্বাচিত হলে আমি উপজেলার জন্য নিরলস কাজ করে যাবো।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক বলেন, উর্বর এই আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করবে আমাদের প্রার্থী। বিজয়ের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করবো ফটিকছড়ির জনগণ বরাবরই জিয়ার আদর্শের অনুসারী।
জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন বলেন, অনুকূল পরিবেশ পেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। নেতাকর্মীরা এখন অনেক উজ্জীবিত। প্রতিটি কর্মীই আমাদের এক একেকটি পিলার। ভোটের মাঠেই খেলা হবে। উপজেলাবাসী যাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিকা রাখবো।’
ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নাজিম উদ্দীন ইমু বলেন, জামায়াত একটি পরিশিলীত দল। দিন-রাত গণসংযোগ ও মাঠে ময়দানে আমরা এসব বলছি। নির্বাচনে দলের মার্জিত ও শিক্ষিত প্রার্থী জয়লাভের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি বলেন, সুন্নিয়ত ও ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করতে একতারার বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে একতারায় ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।
গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান তানজিম বলেন, নতুনের কেতন উড়ে। দেশ শোষণ বিরোধী নুরুল হক নুরুর দল ট্রাক মার্কার বিকল্প কিছুই হতে পারে না। যোগ্য এবং কনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে ভোটাররা আমাকে চেনেন এবং জানেন। আমি তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হতে চাই।
ইসলামী আন্দোলনের মো. জুলফিকার আলী মান্নান বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বরাবরই আমি ছিলাম সামনে। কওমি অঙ্গনে একথা জনশ্রুতি আছে। তারুণ্যের প্রথম ভোট হোক হাত পাকায়।
জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী বলেন, এলাকা সমৃদ্ধ করতে কানাডার নাগরিকত্ব ছেড়েছি। কলমেই হোক ভোটারদের আস্থা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ কবির বলেন, আইন পেশায় লোকজনের উপকার করছি। ফুটবলের বিজয় নিশ্চিত করে আরো বেশি উপকার করার সুযোগ চাই।
একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার বলেন, পিছিয়ে থাকা নারীরা এখন সমতায়। অধিকার নিশ্চিতে হরিণ মার্কায় ভোট চাই।
প্রসঙ্গত, এই আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮০ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫১ হাজার ৯৪২ ও নারী দুই লাখ ২৮ হাজার ৮৪১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন। পোস্টাল ভোটার সাত হাজার ২৫৫ জন। ১৪০ ভোট কেন্দ্রের ৯০০টি ভোট কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা।
সময়ের আলো/আআ