চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এখনো ধুরুং ও শর্তা খাল দিয়ে স্রোতের টানে ভাসিয়ে বাঁশ ও কাঠ পরিবহনের প্রাচীন ঐতিহ্য টিকে আছে। তবে এই পানিপথ ঘিরে রয়েছে চোরাকারবারের চরম অভিযোগও।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা থেকে বাঁশ ও কাঠ কিনে খালে ভাসিয়ে দেন চোরা কারবারি ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ৫০ কিলোমিটার পানিপথ পাড়ি দিয়ে এসব বাঁশ ও কাঠ ফটিকছড়িতে পৌঁছাতে সময় লাগে তিন থেকে চার দিন। তবে পানির প্রবাহ ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে এই সময় কমবেশি হয়।
প্রবীণ ব্যবসায়ীরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা ধুরুং ও শর্তা খাল দিয়ে বাঁশ-কাঠসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন হতে দেখে আসছেন। তাদের বাপ-দাদার কাছেও শুনেছেন, একসময় এই দুই খাল ছিল পণ্য আনা-নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সময়ের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য পরিবহনে খাল দুটির ব্যবহার কমেছে। তবে বাঁশ ও কাঠের ব্যবসায়ীরা এখনো ধরে রেখেছেন এই প্রাচীন পানিপথের ঐতিহ্য। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঁশ-কাঠ পরিবহনের আড়ালে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে দীর্ঘ পানিপথে বা নদীপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু চক্র অবৈধভাবে বনজ সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও লক্ষ্মীছড়ি সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর শর্তা খালের মগকাটা এলাকা থেকে ৫০০ পিস অবৈধ কাঠ জব্দ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। চলতি বছরের ২৯ জুলাই খিরাম ইউনিয়নের বরইতলী এলাকার ঝিরিপথ থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা ৬৯০টি গোল কাঠ ও ১ হাজার ৮০০টি বাঁশ জব্দ করা হয়। জব্দ করা কাঠের পরিমাণ ৭৯৯ দশমিক ৯১ ঘনফুট, যার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা বাঁশের বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। ১৯ আগস্ট সেনাবাহিনীর অভিযানে ধুরুং খাল থেকে ২৫০ পিস পাহাড়ি কাঠ ও ৪০০টি বাঁশ উদ্ধার করা হয়, এসব কাঠ ও বাঁশের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর শর্তা খাল এলাকা থেকে সেনাবাহিনী ১৯০টি কাঠের গুঁড়ি ও ১ হাজার ৫০০টি বাঁশ জব্দ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষ্মীছড়ি জোন সেনা ক্যাম্পের এক তথ্য কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ কাঠ ও বাঁশ পাচার বন্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, কেউ চোরাচালান কিংবা অবৈধভাবে কাঠ ও বাঁশ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাঠ পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের হাজারিখীল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই