উত্তরের জেলা নাটোর। উত্তরা গণভবন, রানি ভবানী, কবির কল্পনায় বনলতা সেনের নাটোর, চলনবিল, মিনি কক্সবাজার খ্যাত হালতিবিল এবং ঐতিহ্যবাহী কাঁচাগোল্লার নাটোর। সর্বত্রই এখন ভোটের ডামাডোল। শহর থেকে গ্রামের হাট-বাজার, পাড়া মহল্লা ও চায়ের দোকানে এখন ভোটের নির্বাচনি হাওয়া বইছে। নানা উন্নয়নের আশ্বাস, কৌশলে ভোট প্রার্থনা। ২০০১ সালের পর এ আসন থেকে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও সবসময়ই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন জোট সরকারের সাবেক এই প্রভাবশালী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী দুলু জনগণের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নান্দনিক নাটোর গড়ার কথা উল্লেখ করেন। নির্বাচনের নানা বিষয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
সময়ের আলো : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু : নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের জন্য নির্বাচনি প্রতিশ্রতির প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথমেই চলে আসে নিরাপত্তার বিষয়টি। নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলার পাশাপাশি উন্নয়ন চিন্তার কথা ভাবতে হবে। নির্বাচনে জিতলে শিক্ষায় অনগ্রসর ও অবহেলিত নাটোরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে চাই। এছাড়া শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনাকে ব্যবহার করে ঐ শিল্পে কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। নাটোরকে নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
সময়ের আলো : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
দুলু : ফ্যাসিষ্টের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য ভোট চাচ্ছি, পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট চাচ্ছি আমরা। তবে গণভোটের ভোটদানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণার দায়িত্ব সরকারের বেশি।
সময়ের আলো : আপনার নির্বাচনি এলাকায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি তাদের জন্য কী করবেন?
দুলু : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রদত্ত ৩১ দফার আলোকে নাটোর ও নলডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তির জনপদ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা জানেন, নাটোর ও নলডাঙ্গার এই এলাকার অনেক মা-বোন আছেন তারা ঢাকাতে তৈরি পোষাক কারখানায় কাজ করে। এই নারী সমাজ যাতে নিজ এলাকায় থেকে কাজ করার সুয়োগ পায় এর জন্য ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
সময়ের আলো : নাটোর চিনিকল দীর্ঘ দিন ধরে লোকসানের মুখে এ শিল্পকে লাভজনক করতে কী করবেন?
দুলু : নাটোর চিনিকলের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ কমানো এবং লোকসান কমিয়ে লাভজনক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করাসহ আখ মাড়াই ক্ষমতাকে আরও উন্নীত করা হবে।
সময়ের আলো : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
দুলু : গত ২৪ বছর আগে এই নাটোর সদর থেকে এক বার না তিন বার এমপি নিবার্চিত হয়েছি। এবার যে সারা আমি পেয়েছি, আমার রাজনীতির জীবনের ৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় এরকম সারা আমি পাইনি। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, মানুষ ইতোপূর্বে ভোট দিতে পারে নাই মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে নাই, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে নাই, এজন্য মানুষ জেগে উঠেছে; কখন তারা ভোট কেন্দ্রে যাবে। আগামী ১২ তারিখ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভোটাররা বিপুল ভোটে আমাকে ধানের শীষ মার্কা প্রতীকে আমাকে নির্বাচিত করবে। আমার বিশ্বাস চার আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ জয়ী হবে এখানে। সেই সঙ্গে নাটোরবাসীর অভাব ও বঞ্চনার সমাপ্তি ঘটবে।
উল্লেখ্য, আসনটি দুইটি পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনটিতে ১৫৬টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটারের সংখ্যা চার লাখ ছয় হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে দুই লাখ এক হাজার ৬৫৪ জন পুরুষ, দুই লাখ পাঁচ হাজার ২৩ জন নারী এবং ৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের।
এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য পাঁচ প্রার্থী হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা কমিটির নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় কমিটির মজলিশে সুরার সদস্য অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক. রকিব উদ্দিন কমল (লাঙ্গল) স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. নুরন্নবী মৃধা (ফুটবল) ও গণসংহতি আন্দোলনের তাহামিদা ইসলাম তানিয়া (মাথাল)।
সময়ের আলো/জোআই