আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে দীর্ঘ ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বদলানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কাজিপুর উপজেলা ও সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালের পর কেবল ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি ছাড়া সব নির্বাচনে শহীদ এম. মনসুর আলী পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।
এই আসনে জাতীয় নেতা শহীদ এম. মনসুর আলী, তার ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, ড. মোহাম্মদ সেলিম এবং নাতি ইঞ্জিনিয়ার তানভীর শাকিল জয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৫ জন, নারী ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৫ জন এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের ভোটার ৪ জন। কাজিপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষ যমুনার চরাঞ্চলে বসবাস করেন। আসনটি জয়ের লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত জোর প্রচারণা চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট যিনি বেশি পাবেন, তিনিই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে দুই দলের প্রার্থীরাই আওয়ামী লীগের ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সেলিম রেজা, জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা শাহিনুর আলম, গণঅধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন, জাতীয় পার্টির মো. জহুরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সবুর এবং নাগরিক ঐক্যের মো. নাজমুস সাকিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা দাবি করেন, অতীতে ভোটারবিহীন নির্বাচনের কারণে আওয়ামী লীগ আসনটি নিজেদের দূর্গ হিসেবে দাবি করত। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার চেষ্টা করছেন তারা।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর শত নির্যাতন জুলুমের মধ্যে দিয়ে আসা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি অন্য দলের চেয়ে শক্তিশালী। যে কারণে আশা করি বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী শাহিনুর আলম বলেন, দীর্ঘদিন একদলীয় প্রভাব থাকলেও এবার ভাসমান ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার আশাবাদ রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন