ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচনী মানচিত্রে এবার ভোটের হাওয়া সরগরম। জেলা ছয়টি আসনে বিভক্ত, যেখানে চারটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল ধারা গড়ে দিয়েছে বিএনপি, আর বাকি দুই আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে দলীয় শরিকদের। এ সময় জামায়াতও তিনটি আসন থেকে নিজের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই সুযোগকে কাজে লাগাতে মরিয়া।
জেলা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০০ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮ হাজার ৮৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৩, নারী ভোটার ১২ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার মাত্র ১৬ জন। মোট ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর)নাসিরনগর আসনে ১৩টি হাওরবেষ্টিত ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একে এম কামরুজ্জামান মামুন ও ইকবাল চৌধুরীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম আমিনুল ইসলামও প্রচারণায় সক্রিয়। এই আসনে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিএনপির ভাঙা ভোট একত্র করতে পারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)বছরের সেরা আলোচিত আসন বলা চলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। ১৯টি ইউনিয়নের এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮। বিএনপি জোটপ্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার মধ্যে প্রধান লড়াই। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের অংশ তরুণদের (স্বতন্ত্র) দিকে সরে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর)সদর-বিজয়নগরের আসনে বিএনপি হেভিওয়েট প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে। ১৯টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬০১। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী তুলনামূলক দুর্বল, তাই এই আসনটি বিএনপির জন্য অনুকূল বলে দেখা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া)বিএনপি প্রার্থী মুশফিকুর রহমান ও জামায়াত প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকারের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে। ১৫ ইউনিয়নের এই আসনে ভোটার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৯। জামায়াতের সক্রিয় প্রচারণা এবং বিএনপি প্রার্থীর শারীরিক দুর্বলতার কারণে এই আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)নবীনগরে বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের মধ্যে মূল লড়াই। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬। তাপস তার বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ব্যবহার করে ভোট টানার চেষ্টা করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর)বাঞ্ছারামপুর আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৪। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি- ১০ জন। বিএনপি জোটপ্রার্থী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং জামায়াত প্রার্থী মো. মহসীনের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই দেখা যাবে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরও দৃশ্যমান প্রভাব রয়েছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসনগুলোতে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে। জামায়াত ও অন্যান্য ছোট দলও ভোটকে বিভাজিত করতে সক্ষম হতে পারে, যা আসনগুলোতে ফলাফলের দিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভোটারদের নজর থাকবে মূলত প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনী প্রচারণার শক্তির ওপর।
এএডি/