কক্সবাজার-৪ সংসদীয় আসন উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী ও নুর আহমদ আনোয়ারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। তবে দুই উপজেলায় ১০/১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। উল্লিখিত কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা জামায়াতের আমির হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পক্ষান্তরে শাহজাহান চৌধুরী সাবেক এমপি দুজনেই সম্মানের সঙ্গে কক্সবাজার জেলার দুই দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোট সচেতন একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী হিসেবে নবীন এবং প্রবীণ হলেও এলাকায় দুজনেরই সমান জনপ্রিয়তা রয়েছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ২ প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে বড় দুই দলের জেলার দলীয় শীর্ষ পদে রয়েছেন।
উখিয়া-টেকনাফে ১১৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০/১২টি ঝুঁকিপূর্ণ, কক্সবাজার-৪ আসনে ৩৮৬৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
এছাড়া এ আসনে এনডিএম (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন) থেকে অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ ও ইসলামী আন্দোলন থেকে মাওলানা নুরুল হক ভোটের মাঠে রয়েছেন। তারাও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচারণায় আছেন। তবে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের প্রচার প্রচারণা চোখে পড়ার মতো।
আনোয়ারী এবং শাহজাহান চৌধুরীর সমর্থনে উঠান বৈঠক ও পথসভা করতে দেখা গেলেও অপর দুই প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ ও মাওলানা নুরুল হকের সমর্থনে তেমন উঠান বৈঠক ও পথসভা করতে দেখা যায়নি। এ কারণেই ভোটাররা কক্সবাজার-৪ আসনে ৪ জন প্রার্থী থাকলেও মূলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আনোয়ারী ও শাহজাহান চৌধুরীর মধ্যে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত রাত ১২টার পর থেকে প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। সে হিসেবে সোমবার প্রচারণার শেষ সময়। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোট প্রদানের দিন। ওই দিন উখিয়া-টেকনাফের ১১৫টি ভোট কেন্দ্রের ৭৫২টি ভোটকক্ষে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে ৮২ হাজার ৫৫১ জন নারী ও ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৮ জন পুরুষের পাশাপাশি ৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার (হিজড়া) ভোট দেবেন।
এছাড়া ৩৮৬৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধন করছেন বলে নির্বাচন অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উখিয়া রাজাপালং এলাকার ভোটার হাবিবুল্লাহ ও আবুল মঞ্জুর জানান, যিনি উখিয়া-টেকনাফকে বেকার সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে কাজ করবেন তাকেই ভোট দেবেন। এছাড়া জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে যিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন তারা তাকেই ভোট দেবেন।
এবারের ভোটে দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবেন জানিয়ে টেকনাফ পৌর এলাকার হাফেজ উল্লাহ জানান, প্রার্থীদের মধ্যে যিনি ভাল তিনি এবার তাকেই ভোট দিবেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লার অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানিয়েছেন, আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করছেন বলে অভিযোগ করেন।
উখিয়া-টেকনাফের মানুষ পরিবর্তন চাই জানিয়ে অধ্যক্ষ আনোয়ারী আরও বলেন, সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় তিনি শতভাগ বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জানিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরাপদ করতে পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন।
অপর দিকে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এ প্রতিবেদককে জানান, আমি উখিয়া-টেকনাফের পরীক্ষিত নেতা। ৪ বারের সংসদ সদস্য আমাকে জনগণ আমাকে বেছে নেবে। উন্নয়নের স্বার্থে তারা নির্দ্বিধায় ধানের শীষে ভোট দেবেন। তিনি ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ভোট কেন্দ্র অবাধ, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখার দাবি জানান।
সময়ের আলো/জোআই