সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিকল। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দুরন্ত থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অসহায় দরিদ্র রোগীরা। বেশি টাকা দিয়ে তাদেরকে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতাল থেকে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে। এতে করে চিকিৎসা সেবার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে সাধারণ দরিদ্র রোগীদের। টাকার অভাবে ব্রেইন বা অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নেবাখালী কাজীপাড়া গ্রামের মৃত কাজী সিরাজুল হকের স্ত্রী আনিসা খাতুন (৭০) প্রেসার ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তার তাকে সিটি স্ক্যান করতে বলেছেন। হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় তাকে বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করতে গেলে কমকরে পাঁচ হাজার টাকা লাগবে। হত দরিদ্র্য আনিসা খাতুন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে কোনো রকম ওষুধ কিনে খান । সেখানে এত টাকা দিয়ে সিটি স্ক্যান করা তার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা ফতেমা বেগম বুকের সমস্যায় ভুগছেন। কয়েকদিন আগে তিনি নাতীকে সঙ্গে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আউটডোরে গেলে চিকিৎসক তাকে সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। বৃদ্ধার নাতী ইকবাল হোসেন জানতেন হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করানো যায়। কিন্তু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে গিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট।
ইকবাল হোসেন বলেন, দাদির চিকিৎসার জন্য আশাশুনি উপজেলা থেকে এসেছি। গ্রামে একটা ছোট চিংড়ি ঘেরের আয় দিয়ে তাদের সংসার চালাতে হয়। দাদিকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য তার নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে সিটি স্ক্যান পরিষেবা পেতে পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী ২ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়, অন্যদিকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার জন্য খরচ হয় ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক সিভিল সার্জন সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এসজেড আতিক বলেন, ২০১২ সালে সিটি স্ক্যান পরিষেবাটি সদর হাসপাতালে প্রথম শুরু হয়। টানা ৮ বছর চলার পর ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মেশিনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেই থেকে অদ্যাবধি হাসপাতালে পরিষেবাটি বন্ধ রয়েছে।
সদর হাসপাতালের সাবেক টেকনিশিয়ান মো. জাকির হোসেন বলেন, সিটি স্ক্যান মেশিনটি কেনার পর টানা ৭/৮ বছর সার্ভিস দিয়েছে। পরে নষ্ট হলে মেরামত করে কিছুদিন চালানোর পর হঠাৎ আর স্ক্যান নিচ্ছিল না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম জানান, আমি এখানে যোগদানের পর জানতে পারি, এখন থেকে ৪/৫ বছর আগে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি নষ্ট। আমরা নতুন একটি মেশিন কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। নতুন মেশিনের দাম প্রায় ১২/১৩ কোটি টাকা। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। হয়তো দ্রুত আমরা নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন পেয়ে যাবো।
সময়ের আলো/জোআই