বাংলাদেশের শুটিং অঙ্গনে আবারও তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও বিতর্ক। দেশের শীর্ষ নারী শুটারদের একজন কামরুন নাহার কলিকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন। কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বাঁধছে ক্রীড়ামহলে।
ফেডারেশনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে কলিকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কলি লিখিতভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে তার ব্যাখ্যা ফেডারেশন গ্রহণ করেনি। শেষ পর্যন্ত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা প্রেক্ষাপট আরও জটিল। এর আগে কলি ফেডারেশনের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে ফেডারেশনের কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়। তবে নিষেধাজ্ঞার সময়কাল ও ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে অনেকেই এটিকে কাকতালীয় হিসেবে দেখছেন না।
আরও পড়ুন
কলি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) স্কলারশিপপ্রাপ্ত একজন অ্যাথলেট। এমন একজন সম্ভাবনাময় শুটারের দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। সংস্থাটির সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ বলেন, আইওসি স্কলারশিপধারী কোনো খেলোয়াড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অলিম্পিকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
শুটিং অঙ্গনে জি এম হায়দার সাজ্জাদকে ঘিরে অভিযোগ নতুন নয়। ফেডারেশন পুনর্গঠনের সময় সার্চ কমিটি তার নাম প্রস্তাব না করলেও পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে তিনি যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। যদিও ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ শেষ পর্যন্ত সাজ্জাদকে কমিটি থেকে সরিয়ে দিলেও শুটিং অঙ্গনে তার প্রভাব পুরোপুরি কমেনি- এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অনেকের ধারণা, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার ফলেই কলিকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কামরুন নাহার কলির নিষেধাজ্ঞা শুধু একজন খেলোয়াড়ের শাস্তির বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের শুটিং অঙ্গনের অভ্যন্তরীণ সংকট, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এএডি/