ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে গভীর রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে হানা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার কিছু অংশ সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এসব অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) এ এ এম মুজাহিদ বেগ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে আব্দুস সামাদ মাতুব্বরের বাড়িতে ডিবি পরিচয়ে একদল লোক হানা দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ২টা ১৮ মিনিটের দিকে একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মাইক্রোবাসে করে ১০-১২ জন ব্যক্তি বাড়িতে আসে। তাদের মধ্যে দুজনের কাঁধে শর্টগান ছিল বলে দাবি করা হয়। তারা নিজেদের থানা থেকে এসেছে বলে পরিচয় দেয় এবং দরজা খোলার জন্য চাপ দেয়। প্রায় ১০ মিনিট অবস্থানের পর তারা চলে যায়।
সামাদ মাতুব্বরের ছেলে বাবুল মাতুব্বর জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের পক্ষে কাজ করায় নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন। ওই রাতে লোকজন এসে তাকে ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করলে গুলি করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন। এর আগেও তার বাড়িতে দুইবার হানা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, চরভদ্রাসন উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। মাকসুদা বেগম নামে এক সমর্থক এ বিষয়ে নির্বাচন ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, লিফলেট বিতরণের সময় মৌলভীরচর বেলতলা এলাকায় একদল লোক তাদের বাধা দেয়। এ ছাড়া, উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্বরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ১২ জন নারী সমর্থককে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ দাবি করেন, তার সমর্থকদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে, প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং রাতে ডিবি পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিষয়টি তার জানা নেই এবং ওই রাতে থানা থেকে কোনো পুলিশ সদস্য সেখানে যায়নি।’
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে তিনি জানান।
সময়ের আলো/আরবিএন/এনএ