চট্টগ্রামের-১২ (পটিয়া) আসনে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের নামে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজ নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জামায়াত প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন। এ আসনে জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচন করছেন ডা. ফরিদুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে শাহাজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন বলেন, উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয় বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছেন বলেও দাবি করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এ ধরনের কার্ড বিতরণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শুধু হাবিলাসদ্বীপ নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও একইভাবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। একটি সরকারি অফিস থেকে কীভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা বোধগম্য নয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি। গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব পালন করা আমার কাজ নয়। প্রশাসনের দায়িত্ব নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার। এই ধরনের কাজ নিন্দনীয় এবং এটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারাই এই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডগুলো বিতরণ করছে। এতে করে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে তারা শঙ্কিত। এ কার্ড বিতরণ করে একটি দল তাদের পক্ষে ভোট চাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি জসিম উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের আমির মাস্টার সেলিম উদ্দিন, কালারপোল থানা জামায়াতের আমির মাস্টার নাছির উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নজরুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগের বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফারহানুর রহমান জানান, টিসিবি কার্ড বিতরণের কাজ ইউনিয়ন পরিষদের। তফসিল ঘোষণার পর টিসিবি কার্ড বিতরণ করা যাবে না, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ১০ উপজেলায় নতুন কার্ড বিতরণের জন পাঠানো হয়। কার্ড বিতরণে সরকারিভাবে কোনো বাধা-নিষেধ থাকলে আঞ্চলিক কার্যালয় কার্ডগুলো বিতরণের জন্য পাঠানো না।
তবে কার্ড বিতরণের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ভোট চাইলে তা অবশ্যই নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/আআ