ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী নির্মল চন্দ্র রবিদাস। কাস্তে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী পেশায় একজন জুতা মেরামতকারী, স্থানীয়ভাবে যিনি পাদুকাশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত। শ্রমজীবী মানুষের জীবন থেকে উঠে এসে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার তার স্বপ্ন ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, অভাব-অনটনের মধ্যেই বেড়ে ওঠা নির্মল চন্দ্র রবিদাসের শিক্ষাজীবন অষ্টম শ্রেণির পর আর এগোয়নি। তবে জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। জীবিকার তাগিদে মানুষের কাছাকাছি থাকার সুযোগ তাকে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, বঞ্চনা ও সংগ্রামকে গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি রাজনৈতিক প্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
নির্মল চন্দ্র রবিদাস বলেন, ফুলছড়ি ও সাঘাটা এলাকার বড় একটি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। প্রতি বছর অসংখ্য পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অনিশ্চিত জীবনে পড়ে। অথচ তাদের কষ্ট ও দাবি জাতীয় পর্যায়ে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। নির্বাচিত হলে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, শ্রমজীবী শ্রেণি এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলো সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরতে চান তিনি।
তার মতে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা অর্জনের বিষয় নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরাই তার মূল লক্ষ্য। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন বলে জানান।
স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, প্রচলিত অভিজাত রাজনৈতিক ধারার বাইরে একজন শ্রমজীবী মানুষের প্রার্থী হওয়া নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাদের মতে, এটি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
এফআর