বাংলাদেশে জাল ভোট একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। আইন অনুযায়ী, অন্য ভোটার বা নিজের নামে বারবার ভোট দেওয়া, মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির হয়ে ভোট প্রদানসহ যেকোনো জালিয়াতি কঠোর দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জাল ভোটারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে-
জাল ভোট বলতে কী বোঝায়?
জাল ভোট বলতে আসলে বোঝায় এমন ভোট, যা প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় দেননি। এটি হতে পারে-অন্য কেউ ভোটারের নাম ব্যবহার করে ভোট দিয়ে দেওয়া। ভয়ভীতি বা জোর করে কাউকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা। কিংবা এক ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দেওয়া। এক কথায়, যেখানে ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা অনুপস্থিত, সেখানেই জালভোটের অস্তিত্ব।
যেসব কাজ জাল ভোট হিসেবে গণ্য
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।ভোট দেওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান।
জালভোট দেওয়ার আইন ও শাস্তি
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে- ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও অপরাধের জন্য নির্বাচনি আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ভোটের মাঠে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম অপরাধ বিবেচনা করে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করবেন।
সময়ের আলো/কেএইচও