আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গাইবান্ধা–৫ (সাঘাটা–ফুলছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অস্থায়ী কার্যালয় থেকে কমিটির চেয়ারম্যান তানজির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সাঘাটা উপজেলার ৬ নম্বর ঘুরিদহ ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এসব কার্যক্রম নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলম সরকারকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান তানজির হোসেন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলম সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা–৫ আসনে নির্বাচনি পরিবেশ পর্যবেক্ষণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দল–মত নির্বিশেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও