নারীদের স্বাধীনতা হুমকিতে, ইসলামপন্থী দলের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যেমন প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনি নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

2026-02-12T01:27:04+00:00
2026-02-12T01:27:04+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নারীদের স্বাধীনতা হুমকিতে, ইসলামপন্থী দলের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২৭ এএম 
নারীদের স্বাধীনতা হুমকিতে। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যেমন প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনি নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির মধ্যে ইসলামপন্থী রাজনীতির দৃশ্যমান উত্থান এবং নারী প্রতিনিধিত্বের নিম্ন হার- দুটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। খবর গার্ডিয়ানের।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়নের শিকার বিরোধী দলগুলোর নেতারা এবার উন্মুক্ত রাজনৈতিক পরিসরে প্রচার চালাচ্ছেন। জনসভা, মিছিল, গণসংযোগ- সবকিছুতেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে। তবে এই উন্মুক্ততার মধ্যেই আরেকটি শক্তির দৃশ্যমান উত্থান ঘটেছে- জামায়াতে ইসলামী।

হাসিনা সরকারের আমলে কঠোর দমননীতির মুখে থাকা জামায়াতে ইসলামী এখন নতুন উদ্যমে রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয়। দলটি নিজেকে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল যাই হোক, তারা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র কনসালট্যান্ট টমাস কিনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী ইসলামপন্থী শক্তির কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না- তা সরকারে হোক বা বিরোধী আসনে।
আরও পড়ুন

বিশেষত তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোট ভোটারের প্রায় ৪২ শতাংশই নতুন ভোটার-যারা প্রচলিত দুই দলের বিকল্প খুঁজছেন।

তবে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়টি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বড় দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় নারীর উপস্থিতি অত্যন্ত কম। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যেও নারীর হার ৫ শতাংশের নিচে বলে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি।

দলের আমির শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে বলেছেন, নারীরা দলটির প্রধান হতে পারবেন না- কারণ তা ‘অনৈসলামিক’। তার অতীতের কিছু মন্তব্য, বিশেষ করে বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে অবস্থান, নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এদিকে জামায়াত তাদের নীতিগত প্রস্তাবে নারীদের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা থেকে ৫ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার কথা বলেছে, বাকি সময়ের জন্য সরকারি ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সমর্থকদের দাবি, এটি নারীদের পারিবারিক ভারসাম্য রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকায় মধ্যরাতে নারীদের মশাল মিছিল নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনায়। ‘রক্ত দিল জনতা, এবার চাই সমতা’-এমন স্লোগানে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

অনেক তরুণীর বক্তব্য, যে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার লক্ষ্য ছিল সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় নারী প্রার্থীর স্বল্পতা ও রক্ষণশীল বক্তব্য তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফসল হিসেবে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমদিকে নিজেকে প্রগতিশীল বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর দলটির ভেতরে ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকজন নারী নেতা দল ছাড়েন এবং এটিকে আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন।

দলটির তরুণ প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, যিনি অতীতে গুম ও দীর্ঘ কারাবাসের শিকার ছিলেন, দাবি করেন- নারীদের নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে তা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। তার মতে, শহুরে মধ্যবিত্তের আলোচনায় নারীর পোশাক বা শীর্ষ নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও, গ্রামীণ ও শ্রমজীবী নারীদের মূল চাওয়া নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

দলটির নারী সমর্থকদের অংশগ্রহণও দৃশ্যমান। তারা বলছেন, ইসলামিক মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদিও একইসঙ্গে তারা স্বীকার করছেন, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সামরিক শাসনামলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটে এবং ২০১১ সালে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দুই ধারার টানাপোড়েন আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নির্ধারণ করবে না- এটি দেশের রাজনৈতিক আদর্শিক দিকনির্দেশকও প্রভাবিত করতে পারে। ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান, তরুণ ভোটারের আকাঙ্ক্ষা, এবং নারী অধিকার প্রশ্ন- সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ চরিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এএডি/


  বিষয়:   নারী  স্বাধীনতা  হুমকি  ইসলামপন্থী  দল 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: