সারাদেশের মতো সিলেটেও শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। অনেক কেন্দ্রেই দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনেক ভোটার।
সকাল সাড়ে ৯টায় সারদা হল ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি মনোনীত সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ভোট দিয়ে পরিবেশ ও ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এবং নিজের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মানুষ নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রয়েছেন।
এর আগে, সকাল ৮টায় শিবগঞ্জ স্কলার্স হোম শাখা কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। ভোটারদের সমর্থনেই বিজয় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া সিলেট ৩ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, সিলেট ৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমেদ চৌধুরী, সিলেট ৪ আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্যান্য প্রার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে সকালে ভোট দিয়ে নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বুধবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ছয়টি সংসদীয় আসনের ২ হাজার ৯৩৭টি ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবহনে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, জেলার ছয়টি আসনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা।
সিলেটে মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭০ জন, নারী ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৮ জন। গত নির্বাচনের তুলনায় ভোটার বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজারের বেশি।
সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
/ইউএমএইচ