রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিতে এসে শুধু ব্যালটেই অংশ নেননি- নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেছেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মেঘনা আলম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি অভিযোগ করেন, প্রার্থী হিসেবে তার জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা সুবিধা বাস্তবে নিশ্চিত হয়নি।
মেঘনা জানান, প্রচারণাকালে প্রয়োজনমতো নিরাপত্তা সহায়তা মিললেও স্থায়ীভাবে গানম্যান দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। এ নিয়ে খোঁজ নিতে তিনি থানায়ও গিয়েছিলেন। তার দাবি, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানানো হলেও ভোটের আগমুহূর্ত পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
আরও পড়ুন
তার ভাষায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া একজন বৈধ প্রার্থী হিসেবে নিরাপত্তা পাওয়া নাগরিক অধিকার। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কারণে সেই সুবিধা না পাওয়া নির্বাচনকে সবার জন্য সমান ক্ষেত্র করে তুলতে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রভাবশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এমন বিলম্ব চোখে পড়ে না- এতে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হয়।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, স্বচ্ছতা ও সমতার বার্তা শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে ভোটারদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। প্রচারণায়ও তিনি নিজেকে তুলনামূলক সংযত দাবি করে বলেন, বিধিনিষেধ মানার চেষ্টা করলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
তবে ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গায় দিনটি ছিল আবেগঘন। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি পড়াশোনা করেছেন, সেই ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রাঙ্গণে ভোট দিতে পেরে নিজেকে গর্বিত বলে জানান মেঘনা। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি এটিকে সম্মানের বিষয় হিসেবেই দেখছেন।
একদিকে অভিযোগ, অন্যদিকে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার- সব মিলিয়ে মেঘনা আলমের বক্তব্যে উঠে এলো নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি সমতার দাবি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকার প্রত্যয়।
এএডি/