টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অটুট থাকল আরও একবার। কলম্বোয় দুর্দান্ত বোলিং, নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং আর তীক্ষè ফিল্ডিং মিলিয়ে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের ২৩ রানে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’কে পুরোপুরি অস্থির করে দিল তারা। এই জয়ের নায়ক ব্লেসিং মুজারাবানি। চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি। পাওয়ার প্লেতেই ব্র্যাড ইভান্সকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। ইভান্স নেন ৩ উইকেট ২৩ রানে। ফলে ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া কখনোই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারেনি।
ধীরগতির উইকেটে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে তোলে ২ উইকেটে ১৬৯ রান। ব্রায়ান বেনেট অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস সাজান ৫৬ বলে। শুরুতে তার ইনিংস কিছুটা ধীর মনে হলেও তাদিওয়ানাশে মারুমানি (৩৫ বলে ২১), রায়ান বার্ল (৩০ বলে ৩৫) ও সিকান্দার রাজার ঝড়ো ২৫ রান (১৩ বলে) দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। বিশেষ করে শেষ ওভারে রাজার দুই চার ও এক ছক্কা স্কোরকে শক্ত ভিত দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০ ওভারে মাত্র দুই উইকেট নিতে পারা বোলিং আক্রমণ সমালোচনার মুখে। স্টিভ স্মিথদের প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
আরও পড়ুন
রান তাড়ায় নেমে মাত্র ৪.৩ ওভারে চার উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মুজারাবানির বাউন্সে জশ ইংলিস ও টিম ডেভিড ক্যাচ দেন, ইভান্সের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে ব্যর্থ হন ক্যামেরন গ্রিন ও ট্রাভিস হেড। এরপর ম্যাট রেনশ ৪৪ বলে ৬৫ রান করে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩১ বলে ৩২ করলেও ছন্দ খুঁজে পাননি। টনি মুনিয়োঙ্গা ও বদলি ক্লাইভ মাদান্দের অসাধারণ ফিল্ডিং ম্যাক্সওয়েলের অন্তত সাত রান বাঁচায়।
রেনশ ও ম্যাক্সওয়েলের ৭৭ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও ম্যাক্সওয়েল বোল্ড হলে ভাঙে প্রতিরোধ। আহত স্টয়নিস দ্রুত আউট হন। ১৯তম ওভারে মুজারাবানির চমৎকার সেøায়ারে রেনশ ক্যাচ দিলে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার আশা। শেষদিকে নাথান এলিসকে বোল্ড করে চতুর্থ উইকেট নেন মুজারাবানি, আর শেষ ওভারে কুহনেমান রানআউট হলে উৎসবে মেতে ওঠে জিম্বাবুয়ে।
চোট সমস্যা নিয়েও এই জয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের নায়ক ব্রেন্ডন টেইলর হ্যামস্ট্রিং চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। তবু দমে যায়নি দল। এই জয়ে সুপার এইটে উঠার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে পরবর্তী পর্বে যেতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে এখন পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কা ও ওমান দুদলকেই হারাতে হবে। গ্রুপ ‘বি’ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত।
এ ছাড়া দিল্লিতে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে কানাডাকে হারায় আরব আমিরাত। কানাডার দেওয়া ১৫০ রান তাড়া করার লক্ষ্যে নেমে দুই বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে আমিরাত।
এএডি/