উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়ের দুটি আসনেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিএনপি। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই অন্য প্রার্থীদের অনেকের জন্য ফলাফল নিয়ে এসেছে হতাশা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় দুই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচনি জামানত হারাতে বসেছেন।
সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের টেলিভিশন প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম, যার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ২৬১।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।
পঞ্চগড়-১ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৭টি, যার মধ্যে বৈধ ভোট ৩ লাখ ৫০ হাজার ২৫।
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারজিস আলম পান ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট। তবে এই দুই প্রার্থীর বাইরে বাকি পাঁচজন প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি। বিএনএফের সিরাজুল ইসলাম (টেলিভিশন) পান ২৬১ ভোট, জাসদের নাজমুল হক প্রধান (মোটর গাড়ি) ৩ হাজার ৯ ভোট, সুপ্রিম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা (একতারা) ১ হাজার ১৮ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মাহাফুজার রহমান (ট্রাক) ৮৩৬ ভোট এবং লেবার পার্টির ফেরদৌস আলম (আনারস) পান ৬৮৩ ভোট।
পঞ্চগড়-২ আসনে মোট ৩ লাখ ২২ হাজার ৩০৭টি ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৯। এ আসনে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত সফিউল আলম পান ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট। বাকি ছয় প্রার্থীর কেউই জামানত রক্ষার মতো ভোট পাননি। ইসলামী আন্দোলনের কামরুল হাসান প্রধান (হাতপাখা) পান ৪ হাজার ৩৯১ ভোট, জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান লিটন (লাঙ্গল) ২ হাজার ১৫২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন (ঘোড়া) ১ হাজার ৮৫৪ ভোট, সুপ্রিম পার্টির দেলোয়ার হোসেন (একতারা) ১ হাজার ৩৫২ ভোট, জাসদের এমরান আল আমিন (মোটর গাড়ি) ৯৫৩ ভোট এবং সিপিবির আশরাফুল আলম (কাস্তে) পান ৯৩৫ ভোট।
বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় একজন প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত রাখতে হয়। মোট বৈধ ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পেলে সেই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চগড়-১ আসনে জামানত রক্ষা করতে প্রয়োজন ছিল প্রায় ৪০ হাজার ভোট এবং পঞ্চগড়-২ আসনে প্রায় ৩৯ হাজার ভোট। বিজয়ী ও রানার্সআপ ছাড়া অন্য প্রার্থীরা এই সীমা অতিক্রম করতে না পারায় দুই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন