জিয়াউর রহমানের নামফলক উপড়ে ফেলে ইতিহাস মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে স্থাপিত নামফলক উপড়ে ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন আওয়ামী দলের কিছু

2026-02-14T19:35:44+00:00
2026-02-14T19:35:44+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
জিয়াউর রহমানের নামফলক উপড়ে ফেলে ইতিহাস মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম 
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে স্থাপিত নামফলক উপড়ে ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন আওয়ামী দলের কিছু সাংবাদিক। এর ফলে নতুন প্রজন্ম জানতে পারছে না চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি এসব তথ্য জানান। 

এসময় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নামফলকটি আগের স্থানে যথাযথভাবে স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।

প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।

বক্তব্যে বলা হয়, দলকানা এসব সাংবাদিক পেশাকে জলাঞ্জলি দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও স্বৈরাচারের মন জয় করতে ব্যস্ত ছিল। গণমানুষের আশা ও ভরসার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে তারা চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতাকে কলংকিত করেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটি গত ১০ ডিসেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণের পর জানতে পারে, ১৯৭৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অডিটরিয়াম ও ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে এম এ মালেকসহ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 

তখন তৎকালীন নামকরা সাংবাদিক ও পরে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর ছবি তোলেন।

পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আগমনের সময় ভিত্তিপ্রস্তরটি খুলে ফেলা হয়। তারপর থেকে এর অবস্থান অজানা ছিল। বিগত কমিটির কর্মকর্তা ও নেতাদের কাছে প্রশ্ন করা হলেও তারা আওয়ামী সরকার বিরোধী আখ্যায়িত করে হুমকি ধামকি দেন।

বক্তব্যে বলা হয়, জিয়াউর রহমান সাংবাদিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে বিপুল অবদান রেখেছেন। বিদেশ সফরে গেলে তিনি চট্টগ্রামের সংবাদপত্র, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের দু-তিনজন প্রতিনিধি সঙ্গে নিয়ে যেতেন। প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে তিনি আর্থিক সমর্থন দিয়েছেন ও শেরশাহ কলোনীতে সাংবাদিকদের জন্য জমি প্রদান করেছেন। 

পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ১৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক কমিটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত নামফলকটি ফেলে দিয়ে ইতিহাস মুছে দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। নতুন প্রজন্ম তাই প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের অবদান জানে না।

বিগত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাতসহ কমিটির কর্মকর্তারা প্রেসক্লাবের আন্ডারগ্রাউন্ড গোডাউন পরিদর্শনে গিয়ে নোংরা ও ময়লাযুক্ত পরিবেশে ভিত্তিপ্রস্তরটি উদ্ধার করেন। বর্তমানে আবর্জনা পরিষ্কার করে নামফলকটি সযত্নে ক্লাবের অফিসে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, ওসমান গণি মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান প্রমুখ।

বক্তব্যে পুনরায় উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ক্লাবের ইতিহাসের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। কালক্রমে দলকানা কর্মকর্তারা এটি মুছে দেয়ার চেষ্টা চালান। নতুন প্রজন্ম তাই এই ইতিহাস জানে না।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   জিয়াউর  রাষ্ট্রপতি  চট্টগ্রাম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: