রংপুরের দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসব আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ-অবরোধ করেছেন পরাজিত বিএনপি প্রার্থীদের সমর্থকরা। এছাড়া আরেকটি আসনে ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী।
রংপুর–৪ : ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপির সমর্থকদের মহাসড়ক অবরোধ
রংপুর–৪ (কাউনিয়া পীরগাছা) আসনে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার কর্মী-সমর্থকরা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাউনিয়া উপজেলার কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ডে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। একই উপজেলার সাহেবগঞ্জ থেকে হারাগাছ পৌরসভা পর্যন্ত রংপুর-হারাগাছ সড়কেও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সেই সঙ্গে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে তারা।
অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানান হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চোহান। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ সড়ক অবরোধ করায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিএনপি মনোনীত পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে। এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা অবনতি হলে, এর দায় প্রশাসন কে নিতে হবে।
ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এসব অভিযোগে ইতোমধ্যে রংপুর ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ পত্র দাখিল করেছি।
রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ এনামুল আহসান এ বিষয়ে সাংবাদিক জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, রংপুর–৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর–৬ : ভোট পুনর্গণনার দাবিতে ঘেরাও কর্মসূচি
অন্যদিকে রংপুর–৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও ফল পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে আসনটির বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের সমর্থকেরা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে এ দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, রংপুর–৬ (পীরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
টাকার কাছে হেরে গেছি : রংপুর- ৩ আসনের পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী
টাকার হেরে গেছেন বলে দাবি করেছেন রংপুর - ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান। ফলে ভোটের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। রিটা রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মরহুম মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে।
রিটা রহমান দাবি করেন, রংপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রংপুরের অলিগলি চোষে বেরিয়েছেন তিনি। ভোটাররাও তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, প্রচারণায় ছিল চমক, এরপরেও তিনি টাকার কাছে হেরে গেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন বলেন, পরিষ্কারভাবে তার কাছে টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, গ্রহণ করেননি রিটা রহমান।
নির্বাচনে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে দাবি করে তীব্র নিন্দা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রিটা রহমান।
প্রশাসনের উদ্বেগ
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এফআর