নির্বাচনের ফলাফলের পর দেশজুড়ে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা, সংঘর্ষ আর প্রতিশোধের রাজনীতি। ভোট-পরবর্তী উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় হামলা, ভাঙচুর, আহত এবং প্রাণহানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থক নিহত : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির নাম ওসমান সরদার (২৯)। তিনি সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিমের সমর্থক ছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও দলের বিদ্রোহী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওসমান সরদারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
নিহত ওসমানের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার বলেন, ওই এলাকায় ধানের শীষের লোকজন ঘোড়া প্রতীকের লোকজন ‘কই গেল’ বলে খুঁজছিল। এ সময় আমার ভাইসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রামদা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে ধানের শীষের সমর্থকরা। পরে গুরুতর অবস্থায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে খুলনায় পাঠান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুম খান বলেন, ওসমান সরদারের মৃত্যুর খবর শুনেছি। ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে।
বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। এ দুই প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসনটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।
জামায়াত কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি-অফিসে বিএনপির হামলা ও ভাঙচুর : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ৪টি বাড়ি, দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিয়ন জামায়াতের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ২ নারী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় দুই বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলাম দুলাল বাদী হয়ে পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান কালাম মেম্বারকে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কাঁঠালিয়া থানায় মামলা করেন।
উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান কালাম মেম্বারের নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী পাটিখালঘাটা গ্রামের জামায়াতে ইসলামী সমর্থক সাবেক অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বাড়িতে, তার ভাই মরিচবুনিয়া গ্রামের কামাল জমাদ্দারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা হারুন অর রশিদের কুঁড়ের কুট (গরুর গো খাবার-খড়ের গাদা) আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। হামলায় কামাল জমাদ্দারের স্ত্রী রানু বেগম (৫৬) মেয়ে সাবিনা (৩০) আহত হয়। একই ইউনিয়নের মোস্তফা মাস্টার, ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. রিপনের বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। পাটিখালঘাটা বাজারের ওষধ ব্যবসায়ী দুলালের ফার্মেসি এবং আব্দুর রবের চায়ের দোকানে হামলা করে। পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন জামায়াত অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফুয়াদ জমাদ্দার (৪২) ও ছাত্রদল নেতা জনি হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, পাটিখালঘাটার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে, দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জামায়াতের পক্ষে ভোট চাওয়ায় যুবককে হাতুড়িপেটা : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় জামায়াতের পক্ষে ভোট চাওয়ায় মো. আসাদ নামে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা এবং তার বসতঘরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কাঠিপাড়ায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মো. আসাদ শুক্তাগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে আসাদ নৈকাঠি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা বাদল ডাকুয়ার নেতৃত্বে রুহুল, রাব্বি, মেহেদী, দেলোয়ার মুন্সী, মামুন, রাকিব ও সুমনসহ আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা তার বসতঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও দাবি পরিবারের। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ এসে আহত আসাদকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কাঠিপাড়া এলাকায় একজনকে পিটিয়ে আহত করার বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-মারধর : কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের পরাজয়ের জেরে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত তিনজন নেতা পিটুনির শিকার হন।
এ ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার পদ স্থগিত করেছে সংগঠনটি। শনিবার দুপুরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দফতর সম্পাদক শাহারিয়া ইমন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সালাম ও কুষ্টিয়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ দিবসের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজ এলাকায় সন্তোষজনক ভোট না পাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কুষ্টিয়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইমতিয়াজ দিবস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগীর কোরাইশীর নেতৃত্বে থাকা পক্ষটি জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান, সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেনকে ধাওয়া দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরিফুর রহমানের সমর্থকরা পাল্টা মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর থাকা চায়ের দোকানের কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সড়ক ফাঁকা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাত ১০টার দিকে মজমপুর রেলগেটের রাজ্জাক তেলপাম্পের পাশে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না হওয়ায় সেখানে আবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাইকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কয়েকজন নেতাদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। সেগুলো নিরসনের চেষ্টা চলছে। সবার সঙ্গে কথা কলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বার বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি লক্ষ্য করে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
নাটোরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১৩ : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই জামায়াতের। এ ছাড়া দলটির ছয় নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এ ঘটনায় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব হোসেন ও বিএনপি কর্মী রাতুল আহম্মেদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কিলঘুষি মারার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য গতকাল সকালে ধানাইদহ বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে শালিস বসার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে নগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাফ সরকারের নেতৃত্বে দলের ৪০-৫০ জন কর্মী ধানাইদহ বাজারে যাচ্ছিলেন।
বাজার সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে তাদের সঙ্গে দেখা হয় নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমানের। এ সময় বিএনপি কর্মীরা হাসিনুরের ওপর হামলা চালায়। রামদা ও চাপাতির আঘাতে জামায়াতের এই নেতা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, আবদুস সোবহান এবং পশ্চিমপাড়ার সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ হোসেন ও হাফিজুর রহমাানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় জামায়াতের সমর্থকরা বাড়িঘর থেকে বের হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে বিএনপি নেতা আসাফ সরকার এবং জামায়াত কর্মী সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, রায়হানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।
আহতদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় জামায়াত নেতা হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের বেশিরভাগ চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।
দুপুর দেড়টার দিকে ধানাইদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ। বাজারের মোড়ে অর্ধশতাধিক পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। সেখান থেকে ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, তার ভাই সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন ও সোবহানের টিনের বাড়ি তছনছ করা হয়েছে। ঘরের বেড়ার টিন কেটে চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়েছে। ছানোয়ারের বাড়ির শয়নকক্ষের রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, সেলাই মেশিনসহ অন্যান্য আসবাব ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ ইব্রাহীম আলী জানান, ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের লোকেরা কয়েকটি গুলি ছুড়েছেন। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রও ছিল। ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, বিএনপির লোকজন আমার মেয়ের বিয়ের তিনটি সোনার গহনা ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলাকারীরা চুলার রান্না করা ভাত ও তরকারি মাটিতে ফেলে দিয়ে গেছে। আমাদের ঘরে ১০ টাকার জিনিসপত্রও নেই।
সময়ের আলো/কেএইচও