শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিএনপি নেতাসহ

2026-07-21T23:05:08+00:00
2026-07-21T23:05:56+00:00
 
  বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম  আপডেট: ২১.০৭.২০২৬ ১১:০৫ পিএম
শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষককে আটক। ছবি : সময়ের আলো
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিএনপি নেতাসহ মাদরাসা কমিটির সালিশ বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের ‘তালোয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোডিং’ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৫) আটক করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আটক মোস্তাফিজুর রহমান ওই মাদরাসার শিক্ষক এবং ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে বাইরে যায়। সকালে কক্ষে শুয়ে থাকা মাত্র পাঁচজন শিশু শিক্ষার্থীর সুযোগ নিয়ে বেলা ১১টার দিকে মোস্তাফিজুর রহমান ১০ বছরের এক মক্তব শিশুকে বলাৎকার করেন। বিষয়টি অন্য শিশুরা দেখে ফেললেও ভয়ে প্রকাশ করেনি।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষক এক শিশুকে মারধর করেন। ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেলে বলাৎকারের তথ্য প্রকাশ পেয়ে যায়। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাদরাসা কমিটি তড়িঘড়ি করে সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও মাদরাসা কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল করিমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রবেশপথ ও চত্বরে উৎসুক জনতার ভিড়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে বৈঠকের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, পরে বারান্দায় এসে আলোচনা শুরু করেন দায়িত্বশীলরা। সালিশের খবরে স্থানীয়দের তোপের মুখে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

ভুক্তভোগী শিশু জানায়, গত ১২ জুলাই তাকে প্রথম বলাৎকার করেন হুজুর। এরপর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ‘স্বপ্ন দেখছ’ বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিগত ১০-১২ দিন ধরে একাধিকবার তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সঠিক বিচার দাবি করেছেন।

শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে সালিশ বসানোর কথা স্বীকার করে মাদ্রাসার সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর সদস্যরা মিলে বৈঠকে বসেছিলাম। বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়, তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

সালিশে উপস্থিত জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও মাদরাসার সহ-সভাপতি আব্দুল করিম জানান, তিনি মাদরাসার সহ-সভাপতি হিসেবেই উপস্থিত থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছে।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক এবং ভুক্তভোগী শিশুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ জাতীয় অপরাধে স্থানীয়ভাবে সালিশ-সংবিধানের কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলছে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   শিশু বলাৎকার  ধামাচাপা  সালিশ  মাদরাসা শিক্ষক  আটক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: