চেক জালিয়াতির মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত ব্যক্তি শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বে দেওয়া এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় কার্যকর করেছেন ময়মনসিংহের আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তাকে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অর্থঋণ আদালত-৪-এ হাজির করা হলে বিচারক ফারহানা আরজু আগের রায় কার্যকরের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল।
আদালত সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি চেক জালিয়াতির মামলার বিচার শেষে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হরিদাস চন্দ্রকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় সাজা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পূর্বের রায় কার্যকরের নির্দেশ দেন।
হরিদাস চন্দ্রকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দেন।
চেক জালিয়াতির এ মামলার বাইরে হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণার অভিযোগে আরও একাধিক মামলা রয়েছে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার জোড়বাড়াইয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হরিদাস চন্দ্র তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১২ লাখ টাকা নেন। কিন্তু চাকরি না দিয়ে দীর্ঘদিন নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।
মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি একা নই, আমাদের এলাকায় আরও অনেক মানুষ চাকরি, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব খাটানোর আশ্বাসে তার কাছে লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন। আমরা সবাই ন্যায়বিচার চাই।’
এর আগে, গত ১২ জুলাই রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট উচ্চতার একটি রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
সময়ের আলো/এসএকে