বগুড়ায় ছুরিকাঘাতের রক্তাক্ত ধারাবাহিকতা থামছেই না। শুক্রবার শহরের নিশিন্দারা এলাকায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আলিফ ছুরিকাঘাতে খুন হওয়ার ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে মাটিডালি এলাকায় ফাহিম হোসেন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। টানা দুদিনের এমন সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ সবার।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে জনগণে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাটিডালি বাজার এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহিম বগুড়া সদরের নওদাপাড়া দক্ষিণ এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।
নিহত ফাহিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে একটি ঢালাই ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন তিনি। তবে তার ভাইয়ের দাবি, ফাহিম ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, মাটিডালি বাজার এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে তনয় দীর্ঘদিন ধরে ফাহিমের বোনকে উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে বোনের বিয়ে অন্যত্র দেওয়া হলে তনয় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানায় স্বজনরা।
শনিবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ফাহিমের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, পেছন থেকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে অভিযুক্ত তনয় দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবরে স্বজনদের আহাজারি হৃদয়বিদারক দৃশ্যের জন্ম দেয়।
ফাহিম নিহতের আগের দিন শুক্রবার বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আলিফ ছুরিকাঘাতে নিহত হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ফাহিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।