শাহজালালের মাজারে ১৮ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

দিপু সিদ্দিকী সিলেট

সারাদেশ

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স থেকে দ্বিতীয় দফায় প্রকাশ্যে গণনায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। গত

2026-07-12T05:39:44+00:00
2026-07-12T05:39:44+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
শাহজালালের মাজারে ১৮ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা
দিপু সিদ্দিকী সিলেট
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৯ এএম 
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স থেকে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স থেকে দ্বিতীয় দফায় প্রকাশ্যে গণনায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। গত ১৮ দিনে দানবাক্সে জমা হওয়া এই অর্থ শনিবার মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গণনা করা হয়। সংগৃহীত টাকা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশি মুদ্রা ছাড়াও বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও চিঠি মিলেছে দানবাক্সে। 

শনিবার সকালে মাজারের দানবাক্স দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খোলার পর গণনার কাজ শুরু হয়। প্রথমবার প্রকাশ্যে গণনার ঠিক ১৯ দিনের ব্যবধানে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হলো। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে এবারের গণনা পরিচালিত হয়। দানের টাকায় এই স্বচ্ছতা উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মাজারের ভক্ত-আশেকানরা। 
গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের ভারপ্রাপ্তজেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের একাধিক প্রতিনিধি। 

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, শাহজালাল মাজারের দানের টাকা খাদেম ও মোতোয়াল্লি পরিবার নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিতেন। এই পরিস্থিতি বদলাতে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স বসানো হয় এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগচি ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। 

পরবর্তীতে ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে ঐতিহাসিক দানের ডেগচি ও দানবাক্স প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয়। সেদিনের গণনায় মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, সঙ্গে মেলে স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাও। ওই অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়েছিল। 


প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় প্রায় আড়াই গুণেরও বেশি অর্থ পাওয়া গেল। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে স্বচ্ছ ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনার সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দানের টাকা ব্যবস্থাপনায় করণীয় নির্ধারণে আগামী বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসছে কমিটি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শুধু দানবাক্সের টাকা নয়- মাজারে মানত হিসেবে আসা গরু-ছাগলসহ অন্যান্য সামগ্রী এবং মাজারের সম্পত্তির হিসাবও ভবিষ্যতে জনসম্মুখে আনা হোক।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   শাহজালাল মাজার  লাখ টাকা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: