খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জি পাড়ায় শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন দেখতে পেয়ে সবাই ছুটে আসে এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে শোকর আকুঞ্জির একটি কাঠের ঘর পুড়ে যায়।
খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার ভোটের মধ্যে ধানের শীষ পেয়েছে ৯,০৫৫ ভোট আর দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১৮,৪৪২ ভোট। এই ইউনিয়নে ধানের শীষ ৯৩৮৭ ভোট কম পাওয়ায় এবং খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী ঘোষণা করায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এলাকার দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তারাই মূলত এই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতে ইসলামী রুকন ও ইউনিট সভাপতি এবং ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালি ওয়ার্ড সভাপতি। তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃদ্ধ শোকর আকুঞ্জি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা বুঝতে না পারলে গভীর ঘুমের মধ্যে শেষ হয়ে যেতাম। আপনারা এসে আমাদের কাউকে জীবিত পাইতেন না। সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করতে চেয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বাঁচিয়েছেন।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান এবং মামলা করার কথাও জানিয়েছেন।
খানজাহান আলী থানার এসআই রুবেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনা জানার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির, খানজাহান আলী থানার আমীর সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো ও সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন ঘটনাস্থলে যান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন।
তারা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক এবং সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করা হোক।
সময়ের আলো/আরবিএন