ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৪৪(৩) ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের নির্ধারিত সীমার কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
এবারের নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন এক লাখ ৩৩ হাজার ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ। তিনি পান ৭০ হাজার ৩৬৮ ভোট। এ আসনে জামানত হারিয়েছেন গণফোরামের আজাদ হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের মো. এনায়েত হোসেন ও জাতীয় পার্টির হাবিব খান।
চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন এক লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এলডিপির প্রার্থী বিল্লাল হোসেন। তিনি পান ৫৭ হাজার ৪৭৩ ভোট। এ আসনে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানসুর, নাগরিক ঐক্যের মো. এনামুল হক, জাতীয় পার্টির মো. এমরান হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের মো. গোলাপ হোসেন ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির ফয়জুন্নুর।
চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া এক লাখ ৮৬৫ ভোট। এখানে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফন্টের এ.এইচ.এম. আহসান উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জয়নাল আবেদীন শেখ, গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও গণফোরামের সেলিম আকবর।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল হান্নান ৭৬ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ পান ৬৯ হাজার ১৫৫। এ আসনে জামানত হারিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মকবুল হোসাইন, জাতীয় পার্টির মাহমুদ আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ফন্টের মো. আবদুল মালেক ও গণফোরামের মুনীর চৌধুরী।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে এক লাখ ৮৫ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মো. মমিনুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নেয়ামুল বশির পান ৭৫ হাজার ৬৬০ ভোট। এ আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির মির্জা গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী পাটোয়ারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন ও ইসলামী ফন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী।
চাঁদপুর জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থী ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দেন। নির্বাচনে নির্ধারিত ভোটের চেয়ে কম পাওয়ায় ২৫ জন প্রার্থীর জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
সময়ের আলো/আআ