গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ফখরুল ইসলামের অপসারণ করার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর ইউনিট। একইসঙ্গে এ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসনের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ইউজিসির আরও ৩৫ জন কর্মকর্তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্ৰহণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিটের যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান দিনার বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইউজিসির সচিব ফকরুল ইসলাম আমাদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেয় এবং নিজে ফেসবুকে পোস্ট করে। আমাদের রাজাকারের বাচ্চা বলে ইউজিসির মত একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সে বহাল থাকবে এটা ছাত্রজনতার সাথে বেইমানি করা ছাড়া কিছু নয়। সেই জায়গা থেকে আমরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেন্ট্রাল কমিটি থেকে কয়েকবার স্বারকলিপি জমা দিয়েছি, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদেরকে অভয় দিয়েছিল যে আমরা তাকে দ্রুত অপসরণ করব। এই অপারসনের জন্য নানা ধরনের টাল বাহানা করে তারা। তারা আমাদেরকে অনেক ধরনের সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু আল্টিমেটলি ইউজিসি সচিব ফকরুল ইসলামকে তারা অপসারণ করতে পারেনি। না পারার পেছনে কারণ ছিল, ফ্যাসিস্ট রেজিমের যে গুরুত্বপূর্ণ দফতরে যারা কাজ করে যাচ্ছে এখন পর্যন্ত এরা প্রত্যেকটা দফতরে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার জন্য কাজ করছে।
তিনি বলেন, গত উপদেষ্টা প্যানেল যারা ছিল তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ছাত্র আন্দোলনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। না পারার মূল কারণ ছিল তারা নিজেই এই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করেছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন যারা করবে আমরা তাদের বিপক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। কোথাও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন হবে, আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনভাবেই মেনে নেব না।
আগামীর সরকারকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কালকে শপথ গ্রহণ করার পর পরেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এবং তাড়াতাড়ি এদেরকে অপসারণ করবেন যেন ভালো ইমেজের মানুষ এখানে আসতে পারে। এখানে যেন দুর্নীতি না হয় এমনকি বাকি প্রাইভেট ও পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলো যেন স্বচ্ছ হয়, স্বচ্ছতা অনুসারে যেন নিয়োগগুলো হয়, সবাই মিলেমিশে যেন একটা সুন্দর দেশ আমরা করতে পারি এটা আমাদের সবার কাছে প্রত্যাশা থাকবে।
সময়ের আলো/এসকে/