সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছে দিনাজপুরের ২৭ প্রার্থী।
দিনাজপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ঘোষিত নির্বাচনি ফলাফল বিশ্লেষণ করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।
পরিপত্রে অনুযায়ী দিনাজপুর জেলার ৬টি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের কম পেয়েছেন। ফলে নিয়মানুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৪ লাখ ১৭ হাজার ১৩৩। এই আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন প্রার্থী প্রদত্ত এই ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওই ৪ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছে। এরা হলেন-ইসলামী বাংলাদেশের মো. চাঁন মিয়া (হাতপাখা), গণ অধিকার পরিষদের মো. রিজুওয়ানুল ইসলাম (ট্রাক), জাতীয় পার্টির মো.শাহিনুর ইসলাম (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির রঘুনাথ চন্দ্র রায় (গোলাপ ফুল)।
দিনাজপুর-২ (বিরল-কাহারোল) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৮। এই আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন প্রার্থী প্রদত্ত এই ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওই ৬ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছে। এরা হলেন-স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার চৌধুরী জীবন (জাহাজ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোবায়ের সাঈদ (রিক্সা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহা. রেদওয়ানুল কারীম রাবিদ (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আ ন ম বজলুর রশীদ (মোটরসাইকেল), জাতীয় পার্টির মো. জুলফিকার হোসেন (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোকারম হোসেন (হারিকেন)।
দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৩৬। এই আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন প্রার্থী প্রদত্ত এই ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওই ৬ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছে। এরা হচ্ছেন-বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির অমৃত কুমার রায় (কাস্তে), জাতীয় পার্টির আহমেদ শফি রুবেল (লাঙ্গল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কিবরিয়া হোসেন (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাইরুজ্জামান (হাতপাখা), জনতার দলের মো. রবিউল ইসলাম (কলম) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের লায়লা তুল রীমা (হারিকেন)।
দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮। এই আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন প্রার্থী প্রদত্ত এই ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওই ২ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছে। এরা হচ্ছেন-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসাইন (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন শাহ (লাঙ্গল)।
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৬। এই আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন প্রার্থী প্রদত্ত এই ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওই ৪ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছে। এরা হচ্ছেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী এস, এম জাকারিয়া বাচ্চু (কলস), জাতীয় পার্টির মো. কাজী আব্দুল গফুর (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুস্তম আলী (মোটরসাইকেল) এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হযরত আলী বেলাল (হরিণ)।
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২। এই আসনে ৭জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন প্রার্থী প্রদত্ত এই ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওই ৫ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছে। এরা হচ্ছেন-বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের মো.আব্দুল হাকিম (মই), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ (ফুটবল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুর আলম সিদ্দিক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. রেজাউল হক (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ (ঘোড়া)।
সময়ের আলো/জোই