ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম দুই ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে বাবর আজম আউট হলে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে অলআউট হয়ে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারে তারা।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কটাক্ষ করে সাবেক ক্রিকেটার দানিশ ক্যানেরিয়া লেখেন, সত্যি বলতে, বয়কট করলেই হয়তো কম লজ্জা পেতে হতো।
কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তান সরকার নির্দেশ দিলে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের পর তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে।
পাকিস্তান খুবই হতাশাজনক ক্রিকেট খেলেছে। বিবৃতি দেওয়া থেকে বেরিয়ে এসে তাদের মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়া উচিত। উসমান তারিক দাবি করেছিল যে সে একাই পাকিস্তানকে জয়ের পথে নিয়ে যাবে। বিপরীতে, ভারতীয় খেলোয়াড়দের একটি ইতিবাচক দিক হলো তারা অতিরিক্ত কথাবার্তায় জড়ায় না; বরং মাঠের পারফরম্যান্সই তাদের হয়ে কথা বলে, আইএএনএসকে বলেন কানেরিয়া।
তিনি আরও বলেন, এখন পুরো বিশ্বই জানে যে রান তাড়া করতে গিয়ে পাকিস্তান ভোগান্তিতে পড়ে। টস জিতে তারা আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়নি- এটা ভালোই হয়েছে; নাহলে হয়তো ১০০ রানের আশপাশেই অলআউট হয়ে যেত। শুধু সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে ভালো খেলে সবাইকে হারাতে পারবে এমন দাবি করা অবাস্তব শোনায়।
পাকিস্তান জানত লক্ষ্যটা মোটেও সহজ নয়। তারা কি সত্যিই বিশ্বাস করেছিল যে তাদের বোলিং আক্রমণ এতটাই শক্তিশালী, যা এত গভীর ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে প্রায় ১০০ রানের মধ্যে গুটিয়ে দিয়ে সহজেই লক্ষ্য টপকে যাবে?
ভারতের হয়ে বল হাতে ইনিংসের সূচনা করা হার্দিক পান্ডিয়া নিজের প্রথম ওভারেই চার বলে শূন্য রানে সাহিবজাদা ফারহানকে আউট করেন। অন্যদিকে জাসপ্রীত বুমরাহ ফেরান সাইম আইয়ুব ও পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আঘাকে। এরপর অক্ষর প্যাটেল পাওয়ারপ্লেতেই ভারতের চতুর্থ সাফল্য এনে দেন, অভিজ্ঞ বাবর আজমকে আউট করে।
এই বিষয়ে কানেরিয়া বলেন, একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে কঠিন মুহূর্তে বাবর আজমের দলকে পথ দেখানো উচিত ছিল, যেভাবে ভারতের জন্য এমএস ধোনি ও বিরাট কোহলি করেছে। দৃশ্যমান কোনো গেম প্ল্যান ছিল না, আর শুরুর উইকেট পতনের পর ইনিংস স্থিতিশীল করতে ব্যাটারদের অন্তত ১০–১২ ওভার টিকে থাকার বার্তা টিম ম্যানেজমেন্টের দেওয়া উচিত ছিল।
সময়ের আলো/এআর