সিলেটের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই বাজিমাত করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী। শুধু সংসদ সদস্য নয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছেন সিলেটের এই দুই কৃতী সন্তান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারা।
এদিকে, এমন খবরে সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসে যোগ হলো এক নতুন স্বর্ণালি অধ্যায়। একই সঙ্গে দুই প্রভাবশালী নেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি সিলেটবাসীকে ভাসিয়েছে আনন্দের জোয়ারে।
সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
আরিফুল হক চৌধুরী : কাউন্সিলার থেকে মন্ত্রী
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুই মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করা আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্থান রূপকথার মতো। ২০০৩ সালে ওয়ার্ড কাউন্সিলার হিসেবে শুরু করা এই নেতা এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারক।
সদ্য অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করা আরিফুল হক চৌধুরী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে সিলেট নগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাথর কোয়ারি সচল করা ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে তিনি বিশেষ নজর দেবেন বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির : ব্যবসায়ী থেকে মন্ত্রী
এদিকে সিলেটের ভিআইপি আসন খ্যাত সিলেট-১ (সদর-নগর) থেকে নির্বাচিত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত মেধার এক অনন্য মিশেল। তার পিতা প্রয়াত খন্দকার আব্দুল মালিক ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও তিনবারের এমপি।
পোশাক ও উৎপাদন শিল্পের পরিচিত মুখ মুক্তাদির নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ব্যবসায়িক নেতৃত্বে আসেন। তিনি ডিএসসিসিআই-এর প্রাক্তন পরিচালক ও টেরি টাওয়েল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বাজিমাত করেছেন।
অন্যদিকে, সিলেটের দুই নেতার মন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীসহ জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে আনন্দ মিছিল বের করেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীরা।
স্থানীয়দের মতে, কাউন্সিলার থেকে মন্ত্রী হওয়া আরিফুল হক চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী নেতা থেকে মন্ত্রী হওয়া খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির— উভয়েই সিলেটের প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে অভিনন্দনের জোয়ার।
সিলেটের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় এই দুই নেতার ভূমিকা এখন জাতীয় পর্যায়ে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেই বিশ্বাস সিলেটবাসীর।
এফআর