সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বালু ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদার দাবিতে কয়েকজন সন্ত্রাসী চলন্ত বাস থেকে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। হামলার পর ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর বড়ভাই শাহিন তালুকদার বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় মেঘাই পুরাতন বাজারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও কাজিপুর প্রেস ক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভুট্টো তালুকদার নামে চাল, ডাল ও বালু ব্যবসায়ী কাজিপুর থেকে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিলেন। দুবলাই গ্রামের কাছে সিংড়াবাড়ি গ্রামের সুমন ও তার ৬/৭ সঙ্গী বাসের গতিরোধ করে তাকে অপহরণ করে। মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পাটাগ্রামের যমুনা নদী ধারে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়।
পরে সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ীকে মৃত ভেবে চলে গেলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে ভুট্টো তালুকদার সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রকিবুল ইসলাম (ভুট্টো) তালুকদার কাজিপুর সদর ইউনিয়নের মেঘাই গ্রামের মৃত মোশাররফ হোসেন তালুকদারের ছেলে।
সম্প্রতি মেঘাই বাজার এলাকায় সোলায়মান মেম্বারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চাল জব্দ করে প্রশাসন এবং ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা উল্লেখ করে আরও বলা হয়, সোলায়মান মেম্বার ভুট্টো তালুকদারকে সন্দেহ এবং সুমনের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুমনের সাথে ষড়যন্ত্র করে ভুট্টো তালুকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও রয়েছে, মিজানুর রহমান বাবলু এবং সোলায়মান মেম্বার দু’জনেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী। আধিপত্য বিস্তারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দলীয় কোন্দল সৃষ্টি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ২৫ সালের মার্চ মাসে মিজানুর রহমানকে বিএনপি কাজিপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ সকলপদ স্থগিত করে জেলা কমিটি। পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে ছাড় পায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর মিজানুর রহমান বাবলু, তার ছেলে ও দলবল বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।
সন্ত্রাসী সুমন ও সোলায়মান মেম্বারের হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করতে পারছে না।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাহিন তালুকদার জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সেলিম রেজা তাদের আশ্বস্ত করেছেন, যার কারণে আইনি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন