স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই দরজায় কড়া নাড়ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে

2026-02-19T01:48:54+00:00
2026-02-19T02:04:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৮ এএম  আপডেট: ১৯.০২.২০২৬ ২:০৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই দরজায় কড়া নাড়ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করবে ইসি। এরপর পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। ঈদের পরে বছরব্যাপী চলবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম। এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এ ছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় সে হিসেবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি। 

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। 

বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বকে জাতি গঠনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিসভা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

মন্ত্রণালয়কে ‘ডাইনামিক’ বা গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে। অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রম জোরদার করা, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

রমজানের শেষে সিটি নির্বাচনের তফসিল : ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা না থাকায় প্রতি মুহূর্তে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। এ জন্য রমজানের পরপর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রোজার পর বছরব্যাপী চলবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম।  

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। রমজানের শেষের দিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ কুরবানি ঈদের আগে সিটি নির্বাচন হয়ে যাবে। এরপর ধাপে ধাপে সব স্থানীয় সরকারের নির্বাচনই হয়ে যাবে। সারা বছরই নির্বাচন হবে। সব নির্বাচন এক বছরেই শেষ করতে পারব কি না সন্দেহ আছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ধাপে ধাপে হয়, সে ক্ষেত্রে সময়ের ব্যাপার আছে। উপজেলা নির্বাচন সময়ের ব্যাপার। অনেক পৌরসভা খালি হয়ে বসে আছে। সবই ধাপে ধাপে করা হবে। তবে এখানে আবহাওয়ার একটা বিষয় আছে, কারণ ওই সময়ে বৈরী আবহাওয়া থাকবে।

রোজার মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন : অন্যদিকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। শিগগিরই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের তফসিল দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

এ বিষয়ে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই আমরা। সে ক্ষেত্রে  রমজানের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হতে পারে। এটা তো আমাদের একপক্ষীয় না, দলেরও একটা বিষয় আছে। আরপিও অনুযায়ী যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দল একাধিক আসন পেলে তবেই নারী আসন পায়, স্বতন্ত্ররা এককভাবে নারী আসন পান না। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন পেয়েছে ১টি। গণঅধিকার পরিষদ আসন পেয়েছে ১টি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১ আসনে জয়লাভ করেছে। গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন। খেলাফত মজলিস পেয়েছ ১টি আসন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি। সে হিসেবে জাতীয় সংসদে বিএনপি ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাচ্ছে ১টি সংরক্ষিত নারী আসন।

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন রমজানের পরপরই করা হবে। সে ক্ষেত্রে রমজানের শেষের দিকে তফসিল ঘোষণা হতে পারে।  

এ বিষয়ে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, নির্বাচন করার মতো দুটো আসন তো আমাদের হাতের কাছেই আছে। আর যদি এরমধ্যে কোনো আসন খালি হয় সেটি রমজানের পরপরই হবে। সাধারণ নির্বাচন ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   স্থানীয়  সরকার  নির্বাচন  মন্ত্রণালয় 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: