একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ, ঢাবি

শিক্ষা

আগামী শনিবার একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় স্মৃতির সঙ্গে শোকের রক্তঝরা দিন অমর একুশে

2026-02-19T02:02:16+00:00
2026-02-19T02:02:31+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
ফাইয়াজ উদ্দিন স্মরণ, ঢাবি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০২ এএম  আপডেট: ১৯.০২.২০২৬ ২:০২ এএম
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বুধবার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে র‌্যাব। ছবি : শেখ ফেরদৌস
আগামী শনিবার একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় স্মৃতির সঙ্গে শোকের রক্তঝরা দিন অমর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বুধবার দুপুরে শহিদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে মূল মিনার ও বেদিকে রং করে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে মিনারের পুরো অংশে সাদা ও লাল রঙের প্রলেপ পড়েছে। মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার শহিদ মিনারের মূল বেদি এবং আশপাশের রাস্তাগুলোতে আলপনা আঁকা এবং দেয়াল লিখনের কাজ শুরু করবেন।

গণপূর্ত অধিদফতর সাধারণত শহিদ মিনারের কাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে, তবে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের প্রস্তুতির সার্বিক দায়িত্ব পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতি বছরের ন্যায় এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘অমর একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি’ এবং একাধিক সাবকমিটি গঠন করেছে।‌ 

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কেয়ার টেকারের দায়িত্বে থাকা রিয়াদ হাসান বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গণপূর্ত অধিদফতর শহিদ মিনার মেরামতের কাজ করছে। বৃহস্পতিবার থেকে চারুকলার শিক্ষার্থীরা এখানে আল্পনা আঁকবে। পরবর্তী সময়ে গণপূর্ত অধিদফতর আবারও ধোয়া-মোছার কাজ করবে। গণপূর্ত অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মমিনুল রহমান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা শহিদ মিনারের মূল কাঠামো মেরামত, রং করা, সংস্কার এবং ধোয়া-মোছার কাজ করছি। আমাদের সব মিলিয়ে শতাধিক শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। আমরা ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে কাজ শুরু করেছি। সব ধরনের কাজ শেষের দিকে। আগামীকাল থেকে সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা এই শহিদ মিনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

অমর একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ও উপকমিটি গঠন : শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক সভায় চার সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ও ১৩টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সব কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানকে সমন্বয়কারী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজাকে যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদকে সদস্য সচিব করে অমর একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।

ঢাবির কর্মসূচি : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় উপাচার্য ভবন সম্মুখস্থ ‘স্মৃতি চিরন্তন’ চত্বর থেকে মৌন মিছিল ও প্রভাতফেরি বের করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এতে নেতৃত্ব দেবেন। মৌন মিছিল ও প্রভাতফেরিটি উদয়ন স্কুল হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গমন করবে। পরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, সব অনুষদের ডিন, হল ও হোস্টেলগুলোর প্রাধ্যক্ষ ও ওয়ার্ডেন, প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক, অফিস প্রধান, শিক্ষক, ডাকসুর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ৬টায় স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রস্তুতি সভা : দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রস্তুতি সভা বুধবার অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যথাযথ মর্যাদায় সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি এবং বিভিন্ন উপকমিটির কার্যক্রম ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচি সুশৃঙ্খল, সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন : একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ঘড়ির কাঁটায় ১২টা ১ মিনিট বাজার সঙ্গে সঙ্গে। ঐতিহাসিকভাবে প্রথমেই রাষ্ট্রপতি এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ভাষা সৈনিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যরা বেদিতে ফুল দেন। সবশেষে সাধারণ জনগণের জন্য শহিদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এবারও একই নিয়ম অনুসারে প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর।

কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা : একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে বেশ কিছু সড়কে ডাইভারশন দেওয়া হবে। চানখাঁরপুল, বকশীবাজার, নীলক্ষেত, পলাশী, শাহবাগ, হাইকোর্ট ক্রসিং এলাকা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া কোনো গাড়ি ঢুকতে পারবে না। তবে রাস্তায় আল্পনার কাজ সুন্দরভাবে করার জন্য এর আগেও যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর। এসব এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। শহিদ মিনারে যাওয়ার প্রতিটি প্রবেশফটকে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে বসানো হবে। হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশি ও হ্যান্ডব্যাগ পরীক্ষা করা হবে।

সময়ের আলো/আআ
  বিষয়:   একুশে  ফেব্রুয়ারি  উদযাপন  প্রস্তুতি 


Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: