কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসন থেকে ছয়-ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। এলাকায় বিপুল জনপ্রিয় এ নেতা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এবার ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন। তিনি মুরাদনগরের জনগণের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। সবাই তাকে ভালোবেসে ‘দাদা ভাই’ নামেও ডাকে। মঙ্গলবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘদিন নির্বাসনে কাটানোর পর দেশে ফিরে মন্ত্রী হওয়া তার জন্য একটা সময়ে অসম্ভবই ভাবা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৬ বারের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
ব্যক্তিগতভাবে তিনি ৬ কন্যাসন্তানের জনক। রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছেন। তিনি তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্যাতনের শিকার হলেও দমে যাননি, থেমে যাননি। শত প্রতিকূলতা জয় করে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন জনমানুষের প্রিয় এই নেতা।
কায়কোবাদ ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এতে তার ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়। এরপর মঙ্গলবার তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
এদিকে কায়কোবাদের মন্ত্রিত্ব লাভের খবর পাওয়ার পরপরই তাকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতরণ করছেন। একজন প্রকৃত জননেতাকে মূল্যায়ন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কায়কোবাদের নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষরা।
এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয়। আমার আল্লাহ যা চান তাই হয়। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। মুরাদনগরের মানুষ আমাকে ৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এবার তারেক রহমান আমাকে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমার জীবনে আর কোনো প্রত্যাশা নেই।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, আমি এখন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমি কাজ করে যাব। জনগণ যেভাবে চায় সেভাবেই এলাকার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের কর্মজীবন শুরু হয় ব্যবসায়ী এবং ঠিকাদার হিসেবে। তিনি ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে তিনি সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। ১২ জুন ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ৩য় বারের মতো সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগদান করে চতুর্থবারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কায়কোবাদ।
সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ২০১০ সালে তাকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বিদেশে নির্বাসনে থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং দলকে সংগঠিত করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদেশে অবস্থান করে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা তথা মুরাদনগর উপজেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। ২০১৬ সালে নির্বাসনে থেকেই কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ লাভ করেন।
সময়ের আলো/আআ