বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য ২০২৬ সালের রমজান তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
উত্তর গোলার্ধে শীতের শেষভাগ ও বসন্তের শুরুতে রমজান শুরু হওয়ায় এবার দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম থাকবে। ফলে রোজার সময় অনেক দেশে মাঝারি পর্যায়ে থাকবে, প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা।
দেশে দেশে রোজার সময় ভিন্ন হয় কেন?
রোজার সময় নির্ভর করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ব্যবধানের ওপর, যা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভিন্ন হয়।
বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলোতে দিন-রাত প্রায় সমান। উত্তর বা দক্ষিণে যত দূরে যাওয়া যায়, ঋতুভেদে দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য তত বাড়ে।
২০২৬ সালে রমজান বসন্ত বিষুবের আগে শুরু হওয়ায় মাসের শুরুতে দিন কিছুটা ছোট এবং শেষের দিকে ধীরে ধীরে বড় হবে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা
কায়রো : শুরুতে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, মাসের শেষে প্রায় ১৩ ঘণ্টা।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান : গড়ে ১২–১৩ ঘণ্টা।
মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া : প্রায় একই সময়সীমা, শহরভেদে সামান্য পার্থক্য।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা
নিউইয়র্ক : শুরুতে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা, মার্চের শুরুতে ১৩ ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি : মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় কিছুটা বেশি সময়।
স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে উচ্চ অক্ষাংশের কারণে রোজার সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে।
চরম উত্তরাঞ্চল
রাশিয়া–এর উত্তরাঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড–এ কিছু বছরে ১৬ ঘণ্টার বেশি রোজা রাখতে হয়েছে। এ ধরনের অঞ্চলে অনেক মুসলমান নিকটবর্তী মাঝারি সময়ের শহর বা মক্কা–র সময়সূচি অনুসরণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের রমজান বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানের জন্য তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ হবে। মাঝারি দৈর্ঘ্যের রোজা ও সহনীয় আবহাওয়া ইবাদত-বন্দেগি পালনে স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/ইউএমএইচ