আশির দশকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের কৃষকদের আশীর্বাদ হিসেবে খনন করা হয়েছিল চার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘চরঠিকা খাল’। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী ও কুচক্রী মহলের দখলদারিত্ব এবং আইনি জটিলতায় খালটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
হাজার হাজার কৃষক পরিবারের দাবি উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের দোসররা হাইকোর্টে রিট করে খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফজুমিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন খালের ওপর প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছে অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা ও বসতি। বাজারের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে খালের তলদেশ। একসময় যেখানে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হতো, আজ সেখানে পানির অভাবে কৃষিকাজ বন্ধের উপক্রম। দখলদারদের কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বর্ষায় দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।
অন্তর্বর্তীকালীন ও নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৃতপ্রায় খালগুলো পুনঃখননের অঙ্গীকার করা হয়েছে। তবে চরকাদিরা এলাকার ৫ শতাধিক কৃষক বর্তমানে বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল্লাহ মুরাদ জানান, খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা সম্ভব হলে অন্তত ১ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী একটি কুচক্রী মহল নিজেদের অবৈধ স্থাপনা রক্ষা করতে জনস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হাইকোর্টে রিট করে। এর মাধ্যমে খাল খনন কাজের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ এনে উন্নয়নের গতি রোধ করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে প্রতি বছর সাধারণ মানুষকে জলাবদ্ধতার হাহাকার নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে চরঠিকা খালের ৮০ জন অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু চরঠিকা খালই নয়, কমলনগরের চর লরেন্স চর পাগলা খাল, হাজির হাট জারির দোনা খাল, তোরাবগঞ্জ মুছার খাল, ওয়াপদা বেড়িবাঁধের খাল, মুন্সি হাট বাজার খাল, উত্তর মার্টিন শান্তির হাট বাজার খাল, ফজুমিয়ার হাট ওয়াপদা বেড়িবাঁধের খালসহ শাখা খালগুলো এখন দখলদারদের কবলে।
অন্যদিকে রামগতি বাজার খাল, তেমুহনীগো খাল, আলেকজান্ডার বাজার খাল এবং সুফিয়া বাজার স্লুইচগেট খালও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান জানান, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এই খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খালের জমি উদ্ধার করা হবে এবং পুনঃখননের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চরঠিকা গ্রামের বাসিন্দা ও সাধারণ কৃষকদের দাবি, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী অবিলম্বে কুচক্রী মহলের সকল বাধা অপসারণ করে খালটি খনন করা হোক। এতে শুধু কৃষি নয়, রক্ষা পাবে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
সময়ের আলো/আরবিএন