খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে বরই বা কুল চাষ করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা রুপম চাকমা (মান্টু)। অনিশ্চিত চাকরির জীবন ছেড়ে কৃষিকে বেছে নিয়ে তিনি আজ একজন স্বাবলম্বী সফল চাষিতে পরিণত হয়েছেন।
খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মধ্যবোয়ালখালি শান্তি লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা রুপম চাকমা একসময় পরিবারের ভরণপোষণের জন্য চট্টগ্রাম শহরে চাকরি করতেন। কিন্তু চাকরি করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় ২০২১ সালে গ্রামে ফিরে বড় ভাই সূর্য সেন চাকমাকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ৬ কানি জমিতে বরই চাষ শুরু করেন।
শুরুর দিকে ফলন আশানুরূপ না হলেও নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণের ফলে এখন তার বাগানে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রুপম চাকমা জানান, তাদের উৎপাদিত বরই বর্তমানে সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হচ্ছে। ছোট পরিসরের উদ্যোগটি ধীরে ধীরে একটি লাভজনক ব্যবসায় রূপ নিয়েছে।
প্রথম দিকে বাজারজাতকরণসহ নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হলেও ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। বর্তমানে তার বাগানে উচ্চফলনশীল ও বাজারচাহিদাসম্পন্ন বলসুন্দরি, কাশ্মীরি, ভারত সুন্দরী ও নারকেলি জাতের বরই চাষ হচ্ছে।
রুপম জানান, প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে বরই সংগ্রহ শুরু হয়ে মার্চের শেষ পর্যন্ত চলে। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ কেজি বরই সংগ্রহ করা হয়। ফলের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারেও সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতি মৌসুমে কানি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হলেও বরই বিক্রি করে কানি প্রতি দেড় লাখ টাকার বেশি আয় সম্ভব হচ্ছে। বরই চাষের পাশাপাশি একই জমিতে মৌসুমভিত্তিক সবজি চাষ করেও বাড়তি আয় করছেন তিনি। এতে বছরে মোট আয় বেড়েছে এবং পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারছেন।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, উপজেলায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন বিভিন্ন জাতের বরই উৎপাদন হচ্ছে। মাটির গুণাগুণ ঠিক রাখতে পাঁচ বছর পরপর ফসল পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমন বলেন, বরই একটি লাভজনক ফসল। দীঘিনালায় উৎপাদিত বরই দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি গড়ে ৭ থেকে ৮ টনের বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। রুপম চাকমার সাফল্য অন্য তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলবে।
পাহাড়ি এলাকায় কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে রুপম চাকমার এই সাফল্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরই চাষ যে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখাতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি।
সময়ের আলো/আরবিএন