মসজিদ কমপ্লেক্সটি আসমত আলী খাঁনের বাড়ির সামনে অবস্থিত। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এই ঐতিহাসিক স্থাপনার নির্মাতা ছিলেন আসর খাঁ ও কিশোর খাঁ নামে দুই ভাই, যারা আসমত আলী খাঁনের পূর্বপুরুষ। আঠারো শতকের শুরুতে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তারা ঝালকাঠির রাজাপুরে আসেন। পরে কিশোর খাঁ এই এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
তিনটি মসজিদের প্রথমটি সবচেয়ে বড়, দ্বিতীয়টি তার চেয়ে ছোট এবং তৃতীয়টি আরও ছোট। সবগুলো মসজিদই এক গম্বুজবিশিষ্ট এবং একই স্থাপত্য নকশায় নির্মিত। প্রতিটি মসজিদের চার কোণে চারটি মিনার রয়েছে এবং গম্বুজের ওপরে অলংকৃত শীর্ষচূড়া দেখা যায়। বাইরের দেয়ালগুলো নানান কারুকাজে সজ্জিত।
তিনটি মসজিদেরই পূর্বদিকে একটি করে প্রবেশদ্বার রয়েছে। অর্ধবৃত্তাকার খিলানযুক্ত এসব প্রবেশপথের বাইরের দেয়ালেও শৈল্পিক অলংকরণ রয়েছে। মসজিদগুলোর সামনে তিন ধাপের সিঁড়ি নির্মিত হয়েছে, যা পুরো স্থাপনাকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।
মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এই প্রাচীন নিদর্শন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি।
ঝালকাঠি জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রত্নঐতিহ্য বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত এবং তাদের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন