নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের এক দিন পরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। যা সচরাচর দেখা যায় না। আবার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করেছেন। এই অফিস করার বেশ গুরুত্ব বহন করে। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক করেন। এর পাশাপাশি সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি যেসব কথা বলেছেন তা আপামর মানুষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। আর গ্রহণ করার অনেক যুক্তি রয়েছে। তিনি সবক্ষেত্রে অনাচার-অনিয়মের সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।
দেশে মাদকদ্রব্যের ভয়াল থাবা। তা তিনি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। যে কারণে অনায়াসে বলেছেন, জুয়া আর মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবচেয়ে অগ্রাধিকার হচ্ছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। রমজান মাসে যেন কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় তা ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন। জনজীবনে যে স্বস্তি আসে বা থাকে সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আপামর মানুষ খুশি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে গ্যাস, পানি আর বিদ্যুতের যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজধানীর আরও একটি বড় সমস্যা হচ্ছে যানজট। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে যানজট নিরাসনে রেল যোগাযোগব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। অনেক সময় ভিআইপি মুভমেন্টের সময় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। আগের সরকারগুলোর সরকারপ্রধান মুভমেন্ট করার অনেক আগে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হতো; যা জনগণের ভোগান্তির শামিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। আর পেরেছেন বলেই তিনি তার আসা-যাওয়ার পথে পুলিশের দাঁড়িয়ে থাকাটা বন্ধ করেছেন। তার গাড়িবহরের সংখ্যা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছেন।
তারেক রহমান শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন। যে জিয়াউর রহমান ছিলেন সৎ, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন। সেই পথ অনুসরণ করে তারেক রহমান প্রথমবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পতাকা বহন করে চলেছেন। শপথ গ্রহণের পর থেকে টানা কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম কর্মদিবসে একের পর এক বৈঠক করেছেন। আবার জাতির কাছে যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়নের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে রমজান মাসের মধ্যেই যেন শুরু করতে পারেন— সে চেষ্টাই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে শুধু নিজের দলের তা নয়। তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, দলমত, ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এ দেশে এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার, আমার ও আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সবাই আশ্বস্ত হবে যে দলমত নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী এই দেশ আমাদের সবার। তিনি শুধু এ কথা বলেই ক্ষান্ত হননি; দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য দেশটাকে একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চান। অর্থাৎ স্বনির্ভর মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চান। আর সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।
এফআর