লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে এক চিকিৎসক ও তার কলেজপড়ুয়া মেয়ের ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি এবং দোকান জবরদখলের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কমলনগর উপজেলার চর কাঁদিরা ইউনিয়নের ফজুমিয়ারহাট মধ্য বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকের পক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম বাদী হয়ে কমলনগর থানায় একটি লিখিত এজাহার করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে চর পাগলা এলাকার মো. নোমান হাওলাদার (৫০) ও তার দুই ছেলে মো. সিয়াম হাওলাদার (২৫) ও মো. রাহি হাওলাদার (২০) এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা চর কাঁদিরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডা. হারুনুর রশিদের নিকট দীর্ঘদিন ধরে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চিকিৎসকের দোকান জবরদখলের চেষ্টা এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ফজুমিয়ারহাট বাজারের মোস্তফার ফল দোকানের সামনে অভিযুক্তরা পুনরায় ডা. হারুনুর রশিদকে আটকিয়ে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা ওই চিকিৎসকের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় বাবার জীবন বাঁচাতে মেয়ে আয়েশা আক্তার শিমু এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকেও বেধড়ক মারধর করে শ্লীলতাহানি ঘটায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দোকান দখল ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সরজমিনে জানা যায়, অভিযুক্ত নোমান হাওলাদার ও তার ছেলেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছুদিন পূর্বে নোমান হাওলাদার গরুর মাংস ব্যবসায়ী আতর আলীকে নির্মমভাবে মারধর করেন। সেই আঘাত ও পরবর্তী অসুস্থতায় ভুগে আতর আলী মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নোমানের ছেলে সিয়াম 'স্পটার হ্যাক' করার দায়ে প্রায় দুই মাস জেল খাটেন। এলাকায় তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দুর্ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ সর্বদা আতঙ্কে থাকে।
এজাহারের বাদী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম বলেন, বিবাদীরা এলাকায় অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদা দাবি ও হয়রানি করছে। একজন চিকিৎসক ও তার মেয়ের ওপর এমন হামলার সুষ্ঠু বিচার পেতেই আমি মামলা করেছি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই