তারাবিহ নামাজের সওয়াব ও মাসআলা

মাসরুর হাসান

ইসলাম

রমজান মাসের ইবাদতের অপূর্ব আয়োজন তারাবিহর নামাজ। প্রতিদিন এশার নামাজের পর মসজিদে দীর্ঘ নামাজ ও কুরআনের সুরে মুখরিত পরিবেশ দেখা

2026-02-20T16:57:12+00:00
2026-02-20T16:57:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
তারাবিহ নামাজের সওয়াব ও মাসআলা
মাসরুর হাসান
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম 
তারাবিহ নামাজের সওয়াব ও মাসআলা। ছবি : সংগৃহীত
রমজান মাসের ইবাদতের অপূর্ব আয়োজন তারাবিহর নামাজ। প্রতিদিন এশার নামাজের পর মসজিদে দীর্ঘ নামাজ ও কুরআনের সুরে মুখরিত পরিবেশ দেখা যায়। মুসলমান নারী-পুরুষ সবার ওপরই এ নামাজ পড়া সুন্নত। তবে পুরুষের জন্য তারাবিহর জামাতে নামাজ আদায় সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া। আর নারীরা জামাত ছাড়াই একা একা পড়বে। 

রমজান মাসে তারাবিহ নামাজের মধ্যে একবার কুরআন খতম করা সুন্নত। এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত দুই রাকাত করে দশ সালামে বিশ রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়। কিন্তু তারাবিহ নামাজ অবশ্যই এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে।

আরবিতে ‘তারাবিহ’ শব্দের অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। তারাবিহ নামাজ পড়াকালে প্রতি চার রাকাত পর কিছু সময় বসে আরাম করা হয়। তাই এই নামাজকে তারাবিহ নামাজ বা সালাতুত তারাবিহ বলা হয়। প্রতি চার রাকাত পর পর আরাম করার কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, দরুদ শরিফ ইত্যাদি পাঠ করা যেতে পারে। তারাবিহ নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে অবশ্য গুনাহগার হবে কিন্তু তারাবিহর কাজা ওয়াজিব হবে না। কারণ সুন্নতের কাজা নেই। (ফাতাওয়া শামি : ২/৪৫; আহসানুল ফাতাওয়া : ৩/৫২৪)

আল্লাহর রাসুল (সা.) কম-বেশি তারাবিহ নামাজ আদায়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি এই ইবাদত নিয়মিতভাবে করলে উম্মতের ওপর তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, তারাবিহ মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে তারাবিহ নামাজ ২০ রাকাত। খোলাফায়ে রাশেদিন ২০ রাকাত তারাবিহ নামাজ আদায় করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের আমল ২০ রাকাতের ওপর। হজরত ওমর (রা.) তাঁর শাসনামলে ২০ রাকাত তারাবিহ আদায়ের জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করে তা বাস্তবায়ন করেছেন। আর রাসুল (সা.) বলেছেন, আমার এবং আমার খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নত দৃঢ়ভাবে ধারণ করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য। 

মূল কথাÑ তারাবিহ নামাজ সুন্নত। আর মুসলমানের ঐক্য হচ্ছে ফরজ। তাই তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিভক্তি বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ মহানবী (সা.)-এর সময় থেকে যুগ পরম্পরায় ২০ রাকাত তারাবিহর আমলই সর্বযুগে সর্বত্র প্রতিপালিত হয়ে এসেছে। বর্তমানেও রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ ২০ রাকাত পড়তে হয় এবং এভাবে পড়া হবে। (কেফায়াতুল মুফতি : ৩/৩৬১)

তারাবিহ নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে। রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবিহ নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে পড়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তারাবিহ নামাজ জামাতে আদায় করা এবং এতে কুরআন শরিফ খতম করা বড় সওয়াবের কাজ। তবে ঘরে বা মসজিদে সুরা কেরাতের মাধ্যমে আদায় করলেও সওয়াব পাওয়া যায়। রমজানে তারাবিহ নামাজ আদায়কারীর সব গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবিহ নামাজ আদায় করে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করা হয়’ (বুখারি : ২০৪৭)। আরও বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখেন, তারাবিহ নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তার জীবনের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে (মেশকাত : ১৮৬২)। আল্লাহ বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   রমজান  তারাবিহ  সময়ের আলো  নামাজ 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: