প্রচুর আমদানি তারপরও ফলের বাজার চড়া

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম

সারাদেশ

প্রচুর ফল আমদানির পরও বাজারে ফলের দাম কমছে না। চট্টগ্রাম বন্দর ও সীমান্তপথ দিয়ে আমদানি প্রচুর হলেও বাজারে সব ধরনের

2026-02-20T21:58:05+00:00
2026-02-20T21:58:32+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
প্রচুর আমদানি তারপরও ফলের বাজার চড়া
সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৮ পিএম  আপডেট: ২০.০২.২০২৬ ৯:৫৮ পিএম  (ভিজিট : ১৪৬)
সংগৃহীত ছবি

প্রচুর ফল আমদানির পরও বাজারে ফলের দাম কমছে না। চট্টগ্রাম বন্দর ও সীমান্তপথ দিয়ে আমদানি প্রচুর হলেও বাজারে সব ধরনের ফলের দামই ঊর্ধ্বমুখী। রমজান মাস শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা শুরু হয়। রমজান শুরুর পরও মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত। আপেল, মাল্টা, আনার, আঙুর ও খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ছোলা ও ডালের দামও। পেঁয়াজের দাম এখনও স্থিতিশীল আছে। তবে ছোলা এবং মটরডালের দাম বাড়লেও সহনীয় বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।


ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির জন্য হরেক কারণ তুলে ধরছেন। কেউ বলছেন, বন্দরে আমদানি হলেও সময়মতো খালাস করা যায়নি। কারও মতে আমদানিকরা ফলে বাড়তি শুল্ককর আরোপ থাকায় দাম সহনীয় অবস্থায় আসছে না।  


চট্টগ্রাম নগরীর বৃহত্তম কাঁচাবাজার বহদ্দারহাট ও চকবাজারসহ আশপাশের ছোট পসরায় থরে থরে সাজানো আছে আমদানি ফল। শুক্রবার সকালে ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের ফলের দামই চড়া। বিদেশ থেকে আমদানি করা আপেল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত। কিছু নিম্নমানের আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি। এসব আপেলের ক্রেতা তেমন নেই। ভালো মানের কালো আঙুর প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আনার মান ভেদে ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৩২০ টাকায়। এ ছাড়া দেশি বরই ও কলার দাম বেড়েছে। বরই ৮০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন সাধারণ মানের কলার দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। 


অন্যদিকে খেজুরের দামও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বস্তাভর্তি নিম্নমানের খেজুরও বিক্রি হচ্ছে কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। এ ছাড়া জাহিদি খেজুর ২৬০ থেকে ২৯০ ও উন্নতমানের দাবাস ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কালমি ৭০০, সুক্কারি ৮০০, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১১৫০ টাকা। কোথাও ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নত ও নিম্নমানের সব ধরনের খেজুরের কেজিপ্রতি খুচরায় দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।


চট্টগ্রাম নগরীর কদমতলী এলাকার বড় অংশজুড়ে আছে আমদানি ফলমূলের পাইকারদের আড়ত। এই আড়ত থেকে খাতুনগঞ্জের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ফলমূল সরবরাহ হয়ে থাকে। প্রতিদিন বন্দর থেকে খালাস করা আমদানি ফল ট্রাকে করে নিয়ে আসা হয় এই আড়তে। দিনভর আড়তদার খুচরা ব্যবসায়ীদের তৎপরতা চোখে পড়ে এই বাজারে। এটি চট্টগ্রাম নগরীতে ‘ফলমন্ডি’ হিসেবে পরিচিত। 


ফলমন্ডির ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, আমরা বিদেশ থেকে প্রতি কেজি ফল এক ডলারের নিচে কিনতে পারি না। আর সেই ফল কেজিপ্রতি হিসাব করলে ডিউটি ও জাহাজ ভাড়া মিলিয়ে ১ ডলার পরিশোধ করতে হয়। প্রতি কেজি আমদানি মূল্যের সমান যদি শুল্কহার হয় দেশে কমদামে বিক্রির সুযোগ নেই। কেবল আমদানিতে দাম কমালে ভোক্তা পর্যায়ে কম দামে বিক্রির সুযোগ আছে।


তিনি বলেন, ফলমূল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার বা ডিউটি একটি বড় সমস্যা। প্রতিটি আইটেমের ফলের আমদানি ডিউটি অনেক বেশি। আবার দেখা যায় ডিউটি কমালেও আমদানিকারক-ক্রেতা কেউ সুফল পায় না। কোনো একটি ফলমূল আমদানিতে ডিউটি কমাবে এই আশায় আমদানিকারকরা বসে থাকেন। যখন ডিউটি কমানোর ঘোষণা আসে তখন রমজান মাস কাছাকাছি হয়ে যায়। রমজানে ডিউটি কমিয়ে ফলমূলের দাম ঠিক রাখতে হলে তিন মাস আগে ঘোষণা দিতে হবে। এরপর এলসি করে জাহাজে পণ্য বোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা যাবে রমজানের আগে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ডিউটি কমানোর ঘোষণা এমন সময় আসে যা আমদানিকারকদের কাজে আসে না। তাতে ক্রেতারাও ডিউটি কমানোর সুফল পান না।


নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার থেকে কিছুটা দূরে চান্দগাঁও গ্যারেজ এলাকায় ছোট ছোট খুপরি দোকানে বিক্রি হয় আমদানি করা দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ফল। বাজারের তুলনামূলকভাবে বড় দোকান থেকে এসব ছোট দোকানে প্রতি কেজিতে পার্থক্য ৫০ টাকারও বেশি। প্রতি কেজি আপেল ৩২০ টাকা থেকে শুরু। মান ভেদে ৩৬০ টাকার আপেলও আছে। কালো আঙুর প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা দিয়ে শুরু। মানভেদে ৫৬০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। 


দোকানি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা বেশি দামে আড়ত থেকে অঙুর কিনে এনে কম দামে বিক্রি করতে পারি না। আড়তদাররা দাম কম রাখলেই কম দামে বিক্রির সুযোগ থাকে। 


রমজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ছোলা। রমজানের আগে প্রতি কেজি ছোলা ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা বিক্রি হয়েছিল খাতুনগঞ্জের আড়তে। খুচরা পর্যায়ে তা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু রমজান শুরুর পর প্রতি কেজিতে খুচরা পর্যায়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। আরও উন্নত মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকায়।  


বহদ্দারহাটের আরজু স্টোরের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে গত বছরের মতো মূল্য পরিস্থিতি তেমন খারাপ নয়। ছোলার দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। এই বাড়তি দাম অন্য সময়ের তুলনায় খুব বেশি বলা যাবে না। ভালো মানের মটরডালও প্রতি কেজি ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকার ঘরেই আছে। বাজারে সরবরাহও অনেক ভালো। 


চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, প্রতি বছর রমজানের আগে পণ্যের দাম বাড়ে। সেই হিসাবে দাম কিছু তো বাড়বে। তবে আমি মনে করি এবার ছোলা, ডাল ও খেজুরের মজুদ অনেক বেশি আছে। অন্তত বাজারে পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই। বাজার নিয়ে ক্রেতারা সন্তুষ্ট আছে বলে আমাদের বিশ্বাস।


চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, কন্টেইনারবাহী জাহাজে করে আসে বিশেষায়িত রিফার কন্টেইনার। রিফার কন্টেইনারে আমদানি হয় ফলমূল। এসব কন্টেইনারে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ রাখতে হয়। একেকটি রিফার কন্টেইনার একেকটি রেফ্রিজারেটর। চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনারগুলো জাহাজেই ভেসে ছিল বেশ কিছু দিন। আবার বন্দর ইয়ার্ডে রাখা রিফার কন্টেইনার থেকে ফলমূল খালাস বিঘ্নিত হয় আন্দোলনের কারণে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর পরই রিফার কন্টেইনারবাহী ফলমূলগুলো চট্টগ্রামে পাইকারদের আড়তে আসতে শুরু করে। এরপর রমজানের আগে পাইকারদের পাশাপাশি খুচরা বাজারে সরবরাহ বেড়ে যায়। 


সময়ের আলো/আআ






  বিষয়:   আমদানি  ফল  বাজার  চড়া  চট্টগ্রাম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: