বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আদালত জানিয়েছে, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা প্রেসিডেন্টকে এই ক্ষমতা দেয় না।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিন বিচারপি এই প্রক্রিয়া সমর্থন করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আদালত গত বছরের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে।
রায় প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় ‘জাতির জন্য অসম্মানজনক’। বিচারপতিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু বিচারপতির জন্য তিনি ‘সত্যিকারে লজ্জা বোধ করছেন’। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বিচারপতিরা ‘বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা’ করেছেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে শুল্ক ব্যবহার করছেন। তবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করে প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন।
এর মধ্যে, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তিন মাসের আলোচনার পর তা জুলাইয়ে ৩৫ শতাংশ এবং আগস্টে ২০ শতাংশে নেমে আসে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি করে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে নেমেছে।
আদালতের রায়ের ফলে পাল্টা শুল্ক বাতিল হয়ে গেলে এবং ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হলে মোট শুল্ক হার কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বলেন, সব দেশের পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যেই যেসব বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, তার অনেকগুলো বহাল থাকবে।
মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো এএফপিকে জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পর গড় শুল্কহার ১৬.৮ শতাংশ থেকে ৯.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এটি সাময়িক হতে পারে, কারণ মার্কিন সরকার নতুনভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপের জন্য অন্য পথ খুঁজতে পারে। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন এবং ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের বিকল্পও রয়েছে।
/ইউএমএইচ