শুল্ক অবৈধ হওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তির আইনি ভিত্তি অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বেশিরভাগ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার রায় দিয়েছে। এই

2026-02-21T13:39:59+00:00
2026-02-21T13:40:15+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
শুল্ক অবৈধ হওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তির আইনি ভিত্তি অনিশ্চিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৯ পিএম  আপডেট: ২১.০২.২০২৬ ১:৪০ পিএম
শুল্ক অবৈধ হওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তির আইনি ভিত্তি অনিশ্চিত
শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বেশিরভাগ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার রায় দিয়েছে। এই রায়ের প্রভাব মূল্যায়ন করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সময় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের এই আদেশের পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা মন্তব্য করেন, এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক অবৈধ হলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিও আইনি ভিত্তি হারাবে। যদি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে, আমাদের স্বাক্ষরিত চুক্তিও আর কার্যকর থাকবে না, তাই আমাদের তা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। 

ট্রাম্প এই পাল্টা শুল্ক ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ)-এর আওতায় আরোপ করেছিলেন। তবে আদালত রায়ে জানিয়েছে, এই আইন প্রশাসনকে সীমাহীন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, আইনগত দিক থেকে রায় স্পষ্ট হলেও বাস্তবে এর প্রভাব জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, আইনি অস্পষ্টতা নেই, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন তা এখনও অনিশ্চিত।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের হাতে অন্যান্য আইনগত বিকল্প রয়ে গেছে, তবে সেগুলো প্রয়োগ করতে কংগ্রেসের অনুমোদন বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া পূর্বে আদায় করা শুল্ক ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

রায়ের প্রভাব পুরোপুরি বোঝার জন্য বাংলাদেশের সময় নেওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষর মানে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না এবং পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহারের পরও দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতিগুলোর আলাদা প্রভাব থাকতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখনও কোনো পক্ষ র‍্যাটিফাই করেনি, তাই কার্যকর হয়নি।

ডব্লিউটিও সেলের সাবেক মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। তিনি বলেন, চুক্তি করা হলেও এটি কার্যকর হয়নি। যদি শুল্ক বাতিল হয়, বাংলাদেশ র‍্যাটিফাই করা থেকে বিরত থাকতে পারবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি আইনের অধীনে ঢালাও শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা বিশ্বের প্রায় সব দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর প্রযোজ্য ছিল। শুরুতে মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আরোপিত এই শুল্ক পরে আরও কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদারে প্রসারিত হয়। 


হোয়াইট হাউস আইইইপিএ-এর উল্লেখ করে দাবি করেছিল, প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয় এই আইন। তবে দেশে-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানো প্রতিষ্ঠানগুলো হঠাৎ করে বাড়তি করের মুখে পড়ায় প্রতিবাদ জানায় এবং পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

গত বছর আদালতে যুক্তিতর্কে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহৃত আইনে ‘শুল্ক’ শব্দটির কোনো উল্লেখ নেই। কংগ্রেস তাদের কর আদায়ের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসও এই যুক্তির সাথে একমত ছিলেন। 

বিচারপতিরা সিদ্ধান্তে জানিয়েছেন, সরকারের ‘ব্যাপক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক’ পদক্ষেপে কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন থাকা আবশ্যক। তিনজন উদারপন্থি এবং ট্রাম্প মনোনীত দুই বিচারপতি রায়ের পক্ষে থাকলেও তিন রক্ষণশীল বিচারপতি দ্বিমত পোষণ করেন।

ট্রাম্প এই শুল্ককে তার অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক নীতি বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। দ্বিতীয় মেয়াদে বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার সময় শুল্কগুলো কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এই শুল্কের কারণে অংশীদার দেশগুলো দূরে সরে গিয়েছিল, আর্থিক বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ট্রাম্পের শুল্ক আগামী এক দশকে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করতে পারত। তবে ১৪ ডিসেম্বরের পর প্রশাসন শুল্ক আদায়ের তথ্য প্রকাশ করেনি। পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেল অনুযায়ী, আইইইপিএর ওপর ভিত্তি করে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ আদায় হয়েছে।

আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি লজ্জিত যে আদালত কিছু সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে এবং বিদেশি রাষ্ট্র এতে খুশি হয়েছে। তিনি বলেন, তবে তারা দীর্ঘ সময় এই সুযোগ নিতে পারবে না। 

রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প নতুনভাবে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন দেশগুলোও এই নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে। ১০ শতাংশ শুল্কের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ট্রাম্প  শুল্ক  অবৈধ  ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: