চট্টগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১ মিনিটে) নগরীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পাবলিক লাইব্রেরির সামনে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ভাষা আন্দোলনের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রশাসন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
মেয়র আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সূচনা। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেই চেতনা পূর্ণতা পায়। মানুষের মৌলিক অধিকার, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতি বারবার সংগ্রাম করেছে।
এদিকে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এদিন জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও একুশের কবিতা অনুষ্ঠান হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রেরণাই পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে শক্তি যুগিয়েছিল। ১৯৫২ সালের চেতনাই জাতিকে অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে বারবার রাস্তায় নামতে সাহস জুগিয়েছে।
ড. মো. জিয়াউদ্দিন আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করে। যদিও উর্দু ভাষার নিজস্ব সাহিত্য ও সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তবুও অন্যের ভাষা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি প্রমাণ করে যে, তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এবং নিজেদের অধিকার আদায় করতে সক্ষম।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নয়, বরং এটি ছিল জাতীয় আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার বীজ রোপণের ঐতিহাসিক অধ্যায়। বাংলা ভাষা শুধু আবেগের বিষয় নয়-এটি জাতিসত্তার ভিত্তি। বাংলা ভাষা বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ ভাষা হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চায় এর ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্চয় সরকার বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক পুরস্কার তুলে দেন।
এফআর