ফাগুনের ফুলেল আবেশ আর ভাষার মাসের অনুভবে বইয়ের ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছে আলমডাঙ্গা। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহীদ মিনার চত্বরে তিন দিনব্যাপী একুশে বইমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
রঙিন ব্যানার, পরিপাটি স্টল আর নানা ধরনের বইয়ে মফস্বলের বুকে তৈরি হয়েছে এক নীরব উৎসবের আবহ।
আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির আয়োজনে এবং আলমডাঙ্গা পৌরসভার সহযোগিতায় প্রতি বছরের মতো এবারও শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অমর একুশে বইমেলা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একুশ মানে মাথা নত না করার শিক্ষা এবং ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার। বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি চেতনা ও সংস্কৃতির মিলনমেলা। তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করতে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে আলোকিত করে এবং জাতিকে এগিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল যুগেও বইয়ের আবেদন কমেনি। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরাঈল, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম মাহমুদুল হক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউল হক, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলা উদ্দিন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, আলমডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি সাংবাদিক রহমান মুকুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ফাগুনের নরম রোদ, ভাষা শহীদদের স্মৃতি আর বইয়ের পাতার শব্দে গড়ে উঠেছে মেলার প্রাণবন্ত পরিবেশ। বইমেলা উপলক্ষে কবিতা আবৃত্তি, হামদ-নাত, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখা হয়েছে তিন দিনজুড়ে। শিশুদের কৌতূহল, তরুণদের আগ্রহ এবং বয়স্কদের স্মৃতিময় উপস্থিতিতে বইয়ের ছায়াতলে মিলিত হয়েছেন সবাই।
আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ বইমেলা আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
সময়ের আলো/আরবিএন