আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সারা দেশে শহিদ মিনারগুলো ফুলপাতা ও পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে। তবে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যেও পৌর এলাকার আক্কেলপুর রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা জানাতে যাননি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে শহিদ মিনারটি। বেদিতে নেই কোনো ফুল বা পুষ্পস্তবক। মিনারের প্রাঙ্গণ অপরিচ্ছন্ন, দেয়াল বিবর্ণ ও ভাঙাচোরা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রাঙ্গণে অধিকাংশ দিন সন্ধ্যার পর জুয়ার আসর বসে।
২০১১ সালে রেলের জমিতে নির্মিত এই শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলু, আর উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন। সর্বশেষ গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে সেখানে প্রশাসনিক ও স্থানীয়ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা দুঃখ প্রকাশ করেছেন, শহিদ মিনার শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এমন একটি দিনে সেখানে একটি ফুলও না পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য আব্দুর রউফ মাজেদ বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার জন্যই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কেউ শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় শহিদ মিনারটিকে অবমাননা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যানের উদ্যোগে শহিদ মিনারটি নির্মিত হয়। প্রতি বছর মাতৃভাষা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে এখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হতো।
এ বছর উপজেলা প্রশাসন সবার সম্মতিতে সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। তবে যেকোনো শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা না জানানো দুঃখজনক।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পূর্বে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজনদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি মুজিবর রহমান আক্কেলপুরী কলেজের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জান্নাত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা না জানানো প্রসঙ্গে মন্তব্য করেননি।
সময়ের আলো/আরবিএন